পাকিস্তানে আটা–সংকটের আশঙ্কা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে, চলতি সিজনে গম উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। মার্কিন কৃষি দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবছর পাকিস্তানের গম উৎপাদন গত বছরের তুলনায় প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ টন কম হতে পারে। আটা দৈনন্দিন খাদ্যের প্রধান উপাদান হওয়ায় উৎপাদন কমে গেলে সরাসরি বাজারে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
2
8
উৎপাদন কমার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। দীর্ঘস্থায়ী খরা, সেচের জলের ঘাটতি এবং চাষযোগ্য জমির পরিমাণ হ্রাস—এসবই ফলনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে বৃষ্টিনির্ভর এলাকাগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত সহায়ক মূল্যের সিদ্ধান্তে বিলম্ব হওয়ায় অনেক কৃষক সময়মতো গম চাষে আগ্রহ হারান। ফলে মোট আবাদ কমেছে এবং ফলনও প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি।
3
8
এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। আফগানিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা ও সংঘাত বৃদ্ধির ফলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
4
8
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে সংঘাত পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে, যা বাণিজ্য ও লজিস্টিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এই সংঘাতই একমাত্র কারণ নয়, তবে সামগ্রিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর এটি অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
5
8
প্রধান গম উৎপাদনকারী প্রদেশ পাঞ্জাবে কিছু এলাকায় শীতকালীন বৃষ্টিপাত ফলনের পক্ষে সহায়ক হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে তা সামগ্রিক ঘাটতি পূরণে যথেষ্ট হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন শহরে আটার দাম বেড়েছে। নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এটি বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
6
8
উৎপাদন কমে গেলে সরকারকে আমদানি বাড়ানো বা মজুত গম বাজারে ছাড়ার মতো পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। অন্যথায় স্থানীয় বাজারে আটা–সংকট বিরাট আকার নিতে পারে।
7
8
সব মিলিয়ে বলা যায়, উৎপাদন হ্রাস, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নীতিগত বিলম্ব এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা—এই চারটি কারণ একসঙ্গে পাকিস্তানের খাদ্য নিরাপত্তাকে চাপে ফেলেছে।
8
8
পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ও কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে, সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের প্রাপ্যতা ও দাম—উভয় ক্ষেত্রেই আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।