মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধান। এই নিয়ে চতুর্থবার। দাম বাড়ল পেট্রল-ডিজেলের৷ দেশের বাজারে জ্বালানির দামবৃদ্ধির চেনা ট্র্যাডিশন বজায় রইল। এবার লিটার প্রতি পেট্রল ও ডিজেলের দাম এক ধাক্কায় বাড়ল আড়াই টাকারও বেশি।
2
12
ফলে স্বাভাবিকভাবেই টান পড়ল মধ্যবিত্তের পকেটে। কারণ, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির জেরে ফের এক দফা বাড়তে চলেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম।
3
12
আজ মঙ্গলবার কলকাতায় পেট্রলের দাম ২.৮৭ টাকা বেড়ে হয়েছে ১১৩.৫১ টাকা। লিটার প্রতি ২.৮০ টাকা বাড়ার পর কলকাতায় ডিজেল এখন ৯৯.৮২ টাকা।
4
12
দিল্লিতে পেট্রলের নতুন দাম ১০২.১২ টাকা (বেড়েছে ২.৬১ টাকা) এবং ডিজেল এখন ৯৫.২০ টাকা (বেড়েছে ২.৭১ টাকা)।
5
12
মুম্বইতে পেট্রল ও ডিজেলের দাম যথাক্রমে ১১১.২১ টাকা ও ৯৭.৮৩ টাকা। চেন্নাইতে পেট্রল মিলছে ১০৭.৭৭ টাকায় এবং ডিজেল ৯৯.৫৫ টাকায়।
6
12
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ডিজেলের দাম বাড়ায় সরাসরি প্রভাব পড়বে পণ্য পরিবহণ বা লজিস্টিকস খরচে। ফলে চাল, ডাল, আনাজপাতির দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এমনিতেই গত কয়েক দিনে দুধ বা পাউরুটির মতো রোজকার খাদ্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া।
7
12
নতুন করে এই মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ। আশ্চর্যজনকভাবে, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড বা অপরিশোধিত তেলের দাম যখন ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, ঠিক তখনই দেশের বাজারে এই দাম বাড়ানো হল। এর আগে গত শনিবারও পেট্রল-ডিজেলের পাশাপাশি সিএনজি-র দাম বাড়ানো হয়েছিল।
8
12
ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বিরাট ধাক্কা। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ে।
9
12
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দীর্ঘ দুই মাস দেশের তেল বিপণন সংস্থাগুলো (আইওসি, বিপিসিএল, এইচপিসিএল) চড়া দামে তেল কিনেও দেশের বাজারে দাম বাড়ায়নি। এর ফলে সংস্থা তিনটির দৈনিক সম্মিলিত লোকসান ১,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই সরকার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
10
12
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত ২০২২ সালের এপ্রিল মাসের পর থেকে দেশে জ্বালানির দাম মোটের ওপর অপরিবর্তিতই ছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে নামমাত্র ২ টাকা কমানো হয়েছিল।
11
12
ফলে দীর্ঘ চার বছর পর এক ধাক্কায় জ্বালানির দাম এতটা বাড়ল। ওয়াকিবহাল মহলের আশঙ্কা, বিশ্ব বাজারের পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এবং টাকার দামের পতন না রুখতে পারলে, আগামী দিনে আরও দুর্ভোগ রয়েছে।
12
12
তেল সংস্থাগুলোর লোকসান সামাল দেওয়া এবং আমজনতার পকেটের চাপ কমানো- এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।