দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, আটলান্টিক মহাসাগরের তাপমাত্রার দীর্ঘমেয়াদি ওঠানামার মূল কারণ প্রাকৃতিক সমুদ্র সঞ্চালন ব্যবস্থা। তবে নতুন এক গবেষণা সেই ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ করেছে।
2
11
গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে আটলান্টিক মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি আর প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া নয়; বরং মানুষের কর্মকাণ্ড থেকে নির্গত গ্রিনহাউস গ্যাস এবং বায়ুদূষণই এই পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী।
3
11
গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির আবহাওয়াবিদ্যার সহকারী অধ্যাপক মাইকেল ডায়মন্ড, গবেষক অ্যান্থনি ফ্রেভেলেটি এবং সুইজারল্যান্ডের অধ্যাপক রবার্ট উইলস।
4
11
গবেষকরা ১৯২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন জলবায়ু মডেলের তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি নতুন পরিসংখ্যানগত পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমে তারা প্রাকৃতিক জলবায়ু পরিবর্তনের সংকেত এবং মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে আলাদা করে বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হন।
5
11
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রশান্ত মহাসাগরে এখনও প্রাকৃতিক জলবায়ুগত পরিবর্তনই প্রধান ভূমিকা পালন করছে। এল নিনো ও লা নিনার মতো পরিচিত জলবায়ু চক্র এবং দীর্ঘমেয়াদি মতো প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াগুলো সেখানে সমুদ্রের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করছে। অর্থাৎ প্রশান্ত মহাসাগরের দীর্ঘমেয়াদি তাপমাত্রার পরিবর্তন এখনও মূলত প্রাকৃতিক কারণেই ঘটছে।
6
11
অন্যদিকে, আটলান্টিক মহাসাগরের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, সমুদ্র সঞ্চালন ব্যবস্থা তাপমাত্রার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ করে। এই সঞ্চালন ব্যবস্থা গরম জল উত্তর দিকে এবং শীতল জল দক্ষিণ দিকে বহন করে পৃথিবীর তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
7
11
কিন্তু নতুন গবেষণার ফলাফল বলছে, আটলান্টিকের দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণতার পেছনে নতুন ভূমিকা আগের ধারণার তুলনায় অনেক কম।
8
11
গবেষক অ্যান্থনি ফ্রেভেলেটির ভাষায়, “আমাদের গবেষণার ফলাফল প্রচলিত তত্ত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা দেখেছি, আটলান্টিক মহাসাগরের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন মূলত মানুষের তৈরি গ্রিনহাউস গ্যাস এবং বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়া অ্যারোসলের মতো মানবসৃষ্ট কারণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।”
9
11
বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার জলবায়ু গবেষণার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দিতে পারে। বিশেষ করে আটলান্টিক অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি, তীব্রতা এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মূল্যায়নে নতুনভাবে ভাবতে হবে। কারণ সমুদ্রের তাপমাত্রা যত বাড়ে, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও তত বৃদ্ধি পায়।
10
11
এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আটলান্টিক উপকূলবর্তী দেশগুলোর কাঠামো পরিকল্পনা, উপকূলীয় শহরগুলোর উন্নয়ন এবং জলবায়ু অভিযোজন কৌশল নির্ধারণেও এই গবেষণার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
11
11
গবেষকরা মনে করছেন, উষ্ণায়নের প্রভাব কমাতে দ্রুত গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস এবং বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আটলান্টিক মহাসাগরের উষ্ণতা আরও দ্রুত বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে জলবায়ু, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার ওপর।