সম্প্রতি লোকসভায় ২০০৭ সালের 'পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট' সংশোধনের একটি বিল পাস হওয়ার পরেই ডিজিটাল লেনদেনে নতুন শুল্ক চাপানো নিয়ে জল্পনা ছড়ায়।
2
10
ওই বিলে ইউপিআইসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিন মাধ্যমে পেমেন্টের ক্ষেত্রে ব্যাংক ও পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট ফি নেওয়ার অনুমতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
3
10
এরপরই কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের দাবির জবাবে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন স্পষ্ট জানান, এমডিআর-এর মতো চার্জ গ্রাহকদের জন্য নয়, বরং তা ব্যবসায়ীদের ওপর প্রযোজ্য। তিনি যুক্তি দেন, ডিজিটাল লেনদেনের পরিকাঠামো উন্নত করতে এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করতে ব্যাংক ও ফিনটেক সংস্থাগুলির অতিরিক্ত মূলধনের প্রয়োজন রয়েছে।
4
10
তবে এনপিসিআই-এর পরিচালন সমিতি এখনও এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং আয়কর সংক্রান্ত নতুন বিল পাস হওয়ার পরেই এটি স্পষ্ট হবে।
5
10
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এত বড় পেমেন্ট সিস্টেম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চালিয়ে নেওয়া কীভাবে সম্ভব হচ্ছে? পিসিআই জানিয়েছে, বিগত এক দশক ধরে ব্যাংক, ফিনটেক সংস্থা, এনপিসিআই এবং রিজার্ভ ব্যাংক যৌথভাবে ইউপিআই-এর প্রযুক্তি, তথ্য সুরক্ষা এবং প্রতারণা রোখার জন্য কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে আসছে।
6
10
বর্তমানে ভারতের কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন ইউপিআই ব্যবহার করছেন, ফলে লেনদেনের বিপুল চাপ সামলাতে ও নেটওয়ার্ক নিরাপদ রাখতে ধারাবাহিকভাবে বিপুল অঙ্কের টাকা খরচ করতে হচ্ছে।
7
10
ডিজিটাল পেমেন্টে সম্ভাব্য অতিরিক্ত শুল্ক বা ফি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দূর করে শুক্রবার পরিষ্কার বার্তা দিল পেমেন্টস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (পিসিআই)।
8
10
সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে যে, ২০১৬ সালে আত্মপ্রকাশের পর থেকে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ইউপিআই যেভাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উপলব্ধ ছিল, ভবিষ্যতেও তা তেমনই থাকবে। পাশাপাশি ছোট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় কিরানা দোকানদারদেরও এর জন্য কোনও মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর (MDR) দিতে হবে না।
9
10
গ্রাহক এবং ছোট ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিলেও পিসিআই ইঙ্গিত দিয়েছে যে ভবিষ্যতে বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা বড় ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে পেমেন্ট সার্ভিস চার্জ চাপানো হতে পারে। তবে সেটি সম্পূর্ণভাবে ব্যবসায়ী এবং পেমেন্ট সংস্থাগুিলর মধ্যকার বাণিজ্যিক চুক্তির বিষয় হবে, যার সঙ্গে সাধারণ গ্রাহকের কোনও সম্পর্ক থাকবে না।
10
10
ফলে স্পষ্ট যে, ভারতের সাধারণ নাগরিকরা যেভাবে পকেটে খুচরো না রেখে ফোন দিয়েই চা থেকে মুদিখানার কেনাকাটা করছিলেন, সেই সুযোগ থাকছে।