যারা ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগের মাধ্যমে নিশ্চিত রিটার্ন পেতে চান, তাদের জন্য পোস্ট অফিসের কিষাণ বিকাশ পত্র একটি জনপ্রিয় দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় প্রকল্প। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন পরিচালিত এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে নির্দিষ্ট সময় পরে বিনিয়োগ করা টাকা দ্বিগুণ হয়ে যায়। বিশেষ করে যারা শেয়ার বাজার বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে যেতে চান না, তাদের কাছে এই স্কিম একটি নিরাপদ বিকল্প হিসেবে পরিচিত।
2
11
বর্তমানে কিষাণ বিকাশ পত্র স্কিমে বার্ষিক ৭.৫ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে। এই সুদের হারের ভিত্তিতে বিনিয়োগকারীর টাকা ১১৫ মাসে অর্থাৎ প্রায় ৯ বছর ৭ মাসে দ্বিগুণ হয়ে যায়।
3
11
অর্থাৎ, কেউ যদি এই প্রকল্পে ১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন, তাহলে মেয়াদ শেষে তিনি প্রায় ২ লক্ষ টাকা ফেরত পেতে পারেন। একইভাবে, ৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে তা বেড়ে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা হতে পারে।
4
11
তবে মনে রাখতে হবে, কিষাণ বিকাশ পত্রের সুদের হার সরকার প্রতি ত্রৈমাসিকে পর্যালোচনা করে ঘোষণা করে। তাই ভবিষ্যতে সুদের হার পরিবর্তিত হলে ম্যাচিউরিটির সময়ও পরিবর্তন হতে পারে। বিনিয়োগ করার আগে বর্তমান সুদের হার এবং নিয়ম অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া উচিত।
5
11
কিষাণ বিকাশ পত্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতার নিয়মও বেশ সহজ। ১৮ বছরের বেশি বয়সী যেকোনও ভারতীয় নাগরিক এই প্রকল্পে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন।
6
11
এছাড়াও ১০ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের নামেও বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবকরা অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। নাবালকের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর অ্যাকাউন্টের দায়িত্ব তার হাতে চলে আসে।
7
11
এই স্কিমে বিনিয়োগ শুরু করা যায় মাত্র ১,০০০ টাকা থেকে। এরপর ১০০ টাকার গুণিতকে বিনিয়োগ বাড়ানো যায়। এই প্রকল্পে সর্বোচ্চ বিনিয়োগের কোনও সীমা নেই। বিনিয়োগকারীরা চাইলে একক অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি যৌথ অ্যাকাউন্টও খুলতে পারেন।
8
11
কিষাণ বিকাশ পত্রের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এর সরকারি নিরাপত্তা। যেহেতু এটি পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পরিচালিত একটি সরকারি সঞ্চয় প্রকল্প, তাই বাজারের ওঠানামার কোনও প্রভাব বিনিয়োগের উপর পড়ে না। শেয়ার বাজার বা মিউচুয়াল ফান্ডের মতো এখানে মূলধন কমে যাওয়ার ঝুঁকি নেই।
9
11
এছাড়াও, এই প্রকল্পের আরও একটি সুবিধা হলো জরুরি প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ। কিষাণ বিকাশ পত্রের সার্টিফিকেট বন্ধক রেখে কিছু নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নেওয়া যেতে পারে। তবে ঋণের অনুমোদন এবং শর্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের নিয়মের উপর নির্ভর করবে।
10
11
কিষাণ বিকাশ পত্রে বিনিয়োগ করতে চাইলে নিকটবর্তী পোস্ট অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। আবেদন করার জন্য সাধারণত আধার কার্ড, প্যান কার্ড, পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হয়।
11
11
নিরাপদ সঞ্চয়, সরকারি গ্যারান্টি এবং নির্দিষ্ট সময়ে টাকা দ্বিগুণ হওয়ার সুবিধার কারণে কিষাণ বিকাশ পত্র এখনও বহু মানুষের পছন্দের বিনিয়োগ মাধ্যম। তবে বিনিয়োগের আগে নিজের আর্থিক লক্ষ্য, প্রয়োজন এবং বর্তমান সরকারি নিয়ম যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে ভাল।