হিমালয়ের কোলে অবস্থিত সুন্দর পাহাড়ি দেশ নেপাল প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের অধিকারী হলেও, এর ভৌগোলিক অবস্থান দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে পরিণত করেছে।
2
8
ক্ষণে ক্ষণে নেমে আসা ভূমিকম্প, হিমবাহ ধস, মেঘভাঙা বৃষ্টি আর হড়পা বানের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বারবার ক্ষতবিক্ষত করেছে এই দেশকে। উত্তর নেপালে ভোট কোশী নদীর আকস্মিক হড়পা বানে নতুন করে বহু প্রাণহানি এবং বহু মানুষের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা যেন সেই পুরোনো ট্র্যাজেডির ক্ষতগুলোকেই আবার উসকে দিল।
3
8
নেপালের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ইতিহাস ফিরে দেখলে দেখা যায় শতাব্দীর অন্যতম ভয়াল দিন ছিল ১৯৩৪ সালের ১৫ জানুয়ারি। রিখটার স্কেলে ৮ মাত্রারও বেশি তীব্রতার সেই বিধ্বংসী ভূমিকম্পে কাঠমান্ডু উপত্যকা ও পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে ৮,৫১৯ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল এবং হাজার হাজার বাড়িঘর ধুলোয় মিশে যায়।
4
8
এরপর ১৯৮৮ সালের আগস্টে ভারত-নেপাল সীমান্তে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এবং গৃহহীন হয়ে পড়েন প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ। পাহাড়ি ধস ও বর্ষার জেরে তখন যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।
5
8
সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্ষত তৈরি করেছিল ২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিলের ৭.৮ মাত্রার গোর্খা ভূমিকম্প। সেই ভূমিকম্প এবং পরবর্তী ১২ মে-র তীব্র আফটারশকে প্রায় ৯,০০০ মানুষ প্রাণ হারান এবং এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে নেমে আসা তুষারধসে পর্যটক ও শেরপাদের মৃত্যু হয়। তার ঠিক আগের বছর, ২০১৪ সালের এপ্রিলে খুম্বু আইসফল ধসে ১৩ জন শেরপা গাইডের মৃত্যু এভারেস্ট অভিযানের ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
6
8
কেবল ভূমিকম্পই নয়, বর্ষা এলেই নেপালের পাহাড়ি নদীগুলো রূপ নেয় সর্বনাশা স্রোতে। ১৯৯৩ সালের বর্ষায় বন্যা ও ভূমিধসে ১,২৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর ২০১৯ ও ২০২০ সালের বর্ষাতেও শত শত মানুষের মৃত্যু ও হাজার হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়। এমনকি ২০২১ সালের মেলামচি উপত্যকার হড়পা বান কিংবা ২০২৫ সালের অক্টোবরের পাহাড়ি ধস নেপালের ভঙ্গুর ভূতাত্ত্বিক বাস্তবতাকে বারবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।
7
8
ভঙ্গুর হিমালয় পর্বতের গঠন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন নেপালকে প্রতিনিয়ত চরম ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। পাহাড়ের কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা জনবসতিগুলো প্রকৃতির এক একটি রুদ্ররূপে মুহূর্তে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে, যার সাম্প্রতিকতম প্রমাণ রসুয়ার ভোট কোশী নদীর বিধ্বংসী হড়পা বান।
8
8
বারবার নেমে আসা এই প্রাকৃতিক আঘাত প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, হিমালয়ের কোলে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইটা কতটা অনিশ্চিত ও কঠিন।