বর্তমান সময়ে নিয়মিত বিনিয়োগের সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতিগুলির মধ্যে একটি হল এসআইপি। কম টাকায় শুরু করে দীর্ঘমেয়াদে বড় ফান্ড গড়ার সুযোগ থাকায় অনেকেই এই পথ বেছে নেন। তবুও বাস্তব চিত্র বলছে—অসংখ্য বিনিয়োগকারী মাঝপথেই এসআইপি বন্ধ করে দেন, ফলে তারা প্রকৃত সম্পদ গঠনের সুযোগ হারান।
2
9
এই ব্যর্থতার মূল কারণ হল ধৈর্যের অভাব এবং বাজারের ওঠানামা নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ। শেয়ারবাজার স্বাভাবিকভাবেই ওঠানামা করে, কিন্তু অনেক বিনিয়োগকারী সাময়িক পতনে ভয় পেয়ে এসআইপি বন্ধ করে দেন। এর ফলে তারা দীর্ঘমেয়াদে যে লাভ পেতে পারতেন, তা আর পাওয়া হয় না।
3
9
এখানেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ‘৭-৫-৩-১’ নিয়ম। এই নিয়মটি মূলত বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য, পরিকল্পনা এবং মানসিক স্থিরতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
4
9
এই নিয়মের প্রথম ধাপ ‘৭’—অর্থাৎ অন্তত ৭ বছর বিনিয়োগ ধরে রাখা। কারণ চক্রবৃদ্ধি সুদের আসল শক্তি সময়ের সঙ্গে প্রকাশ পায়। প্রথম কয়েক বছরে লাভ কম মনে হলেও, সময় যত বাড়ে ততই রিটার্ন দ্রুত বাড়তে শুরু করে।
5
9
দ্বিতীয় ধাপ ‘৫’—পাঁচটি ভিন্ন ধরনের ফান্ডে বৈচিত্র্য রাখা। একটিমাত্র ফান্ডে বিনিয়োগ করলে ঝুঁকি বেশি থাকে। ইক্যুইটি, ডেট, হাইব্রিড—এই ধরনের বিভিন্ন ফান্ডে বিনিয়োগ করলে ঝুঁকি কমে এবং স্থিতিশীল রিটার্ন পাওয়া সম্ভব হয়।
6
9
তৃতীয় ধাপ ‘৩’—তিনটি বাজার চক্র অতিক্রম করা। বাজারে উত্থান, পতন এবং পুনরুদ্ধার—এই তিনটি ধাপ বারবার ঘটে। যারা এই পুরো চক্রটি অতিক্রম করেন, তারাই সাধারণত ভাল রিটার্ন পান। মাঝপথে বেরিয়ে গেলে লাভের বড় অংশ হাতছাড়া হয়ে যায়।
7
9
শেষ ধাপ ‘১’—একটি লক্ষ্য বা ফাইনান্সিয়াল গোল ধরে রাখা। বিনিয়োগের উদ্দেশ্য যদি স্পষ্ট না থাকে, তাহলে বাজারের ওঠানামায় বিচলিত হয়ে পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকলে বিনিয়োগকারীরা বেশি স্থির থাকতে পারেন।
8
9
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসআইপি সফল হতে গেলে শুধু টাকা বিনিয়োগ করলেই হবে না—মানসিক দৃঢ়তাও প্রয়োজন। বাজারের স্বল্পমেয়াদি ওঠানামাকে উপেক্ষা করে দীর্ঘমেয়াদে স্থির থাকা জরুরি।
9
9
সব মিলিয়ে এসআইপি বিনিয়োগের আসল রহস্য হল সময়, ধৈর্য এবং শৃঙ্খলা। ‘৭-৫-৩-১’ নিয়মটি সেই পথটাই সহজভাবে দেখায়। যারা এই নিয়ম মেনে চলতে পারেন, তারাই শেষ পর্যন্ত প্রকৃত অর্থে সম্পদ তৈরি করতে সক্ষম হন।