শেয়ারবাজারে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করলে সম্পদ কতটা বাড়তে পারে—তার সবচেয়ে বাস্তব উদাহরণ এক কথায় ‘চক্রবৃদ্ধি সুদ’ বা কম্পাউন্ডিং। সময় যত বাড়ে, প্রথম কয়েক বছরের আয় মূলধনে যুক্ত হয়ে পরবর্তী বছরগুলোর প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করে। এই শক্তির কারণেই দীর্ঘ মেয়াদে ইকুইটি বিনিয়োগের রিটার্ন বিস্ময়কর মাত্রায় পৌঁছাতে পারে।
2
9
কম্পাউন্ডিংয়ের বাস্তব প্রভাব দেখাতে আমরা উদাহরণ হিসেবে বেছে নিয়েছি একটি মাত্র ফান্ড—ICICI Prudential Value Fund, যার যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৬ আগস্ট ২০০৪ সালে। লঞ্চের সময় যারা মাত্র ১ লক্ষ বিনিয়োগ করেছিলেন, তাদের বিনিয়োগ এখন পৌঁছেছে ৪৮.৫ লক্ষ–এ। অর্থাৎ প্রায় ২০.১% বার্ষিক রিটার্ন।
3
9
ভ্যালু মিউচুয়াল ফান্ড এমন সব স্টকে বিনিয়োগ করে যেগুলির বাজারদর আপাতত কম, কিন্তু প্রকৃত মূল্য অনেক বেশি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যখন সেই স্টকের প্রকৃত মূল্য ‘আনলক’ হয়, তখন বিনিয়োগকারীরা পান দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল রিটার্ন।
4
9
যদি কেউ তিন বছর আগে এই ফান্ডে ১ লক্ষ বিনিয়োগ করতেন, তা এখন বেড়ে দাঁড়াত ১.৭৭ লক্ষ। পাঁচ বছরের হিসাবের ভিত্তিতে, ১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগের মূল্য বর্তমানে দাঁড়াত ২.৬৬ লক্ষ। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদ যেমন সোনার খনি, তেমনি মাঝারি মেয়াদেও এই ফান্ডে রিটার্ন উল্লেখযোগ্য।
5
9
SIP–এর শক্তি আরও বেশি। শুরু থেকেই যদি কেউ প্রতি মাসে মাত্র ১০,০০০ SIP করতেন, তবে মোট বিনিয়োগ হতো ২৫.৫ লক্ষ। কিন্তু ৩১ অক্টোবর ২০২৫–এ সেই টাকা বেড়ে হত অবিশ্বাস্য ২.৪০ কোটি। এটিই চক্রবৃদ্ধির আসল জাদু—নিয়মিত ছোট বিনিয়োগ জমে বিরাট সম্পদ তৈরি করে।
6
9
এই স্কিমের সবচেয়ে বড় হোল্ডিং রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (৭.২৩%)। এরপর রয়েছে—ইনফোসিস (৬.৯১%, এইচডিএফসি ব্যাংক (৬.৪৮%), আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক (৬.৩১%), টিসিএস (৪.৫৩%), অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক (৪.৪৯%), সান ফার্মা (৪.৪৬%)। যখন গ্লোবাল মার্কেট সর্বোচ্চ স্তরে এবং ভ্যালুয়েশন অত্যধিক, তখন বিনিয়োগকারীর সামনে থাকে দুটি কৌশল।
7
9
অ্যাসেট অ্যালোকেশনে স্থির থাকা, অর্থাৎ স্টক, ডেট, সোনা—সব মিলিয়ে ব্যালেন্স করে চলা।
8
9
ভ্যালু ইনভেস্টিং বেছে নেওয়া, কারণ বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও কিছু খাতে অবমূল্যায়নের সুযোগ থাকে, যেখানে সময়মতো প্রবেশ করলে ভবিষ্যতে উল্লেখযোগ্য লাভ হতে পারে।
9
9
ICICI Prudential Value Fund প্রমাণ করেছে, দীর্ঘমেয়াদি চোখ রেখে সঠিক ফান্ডে বিনিয়োগ করলে মাত্র ১ লক্ষ টাকা কয়েক দশকে কোটি টাকায় পৌঁছানো কোনও স্বপ্ন নয়। নিয়মিত বিনিয়োগ, ধৈর্য এবং কম্পাউন্ডিং—এই তিনকেই অস্ত্র করে চললে সম্পদ সৃষ্টি সময়ের ব্যাপার মাত্র।