২০২৬ সালের মহালয়া অমাবস্যা পালিত হবে ১০ অক্টোবর, শনিবার। পিতৃপক্ষের শেষ দিন এই তিথি। পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ, শ্রাদ্ধ ও দানের জন্য দিনটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
2
14
১০ অক্টোবর, শনিবার অমাবস্যা তিথি শুরু হবে ৯ অক্টোবর রাত থেকে এবং শেষ হবে ১০ অক্টোবর রাতের দিকে। তাই ১০ অক্টোবর দিনভরই অমাবস্যার তিথি থাকবে।
3
14
৯ অক্টোবর শুক্রবার রাত ৮ টা ৫৯ মিনিটের পর চতুর্দশী ছেড়ে যাচ্ছে৷ তারপর ৯ টা থেকে অমাবস্যা শুরু হচ্ছে৷ ১০ অক্টোবর রাত ৮ টা ৩৪ মিনিট পর্যন্ত অমাবস্যা থাকবে৷
4
14
তপর্ণের জন্য ১০ অক্টোবর শনিবার দিনটি গুরুত্বপূর্ণ।মহালয়া অমাবস্যায় সাধারণত দিনের মধ্যভাগে শ্রাদ্ধ ও তর্পণের সময়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
5
14
২০২৬ সালে পিতৃপক্ষ শুরু হয়েছে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে। ১০ অক্টোবর মহালয়া অমাবস্যার সঙ্গে শেষ হবে পিতৃপক্ষ। এই দিনটিকে সর্বপিতৃ অমাবস্যাও বলা হয়।
6
14
বিশ্বাস অনুযায়ী, পিতৃপক্ষের অন্য কোনও তিথিতে শ্রাদ্ধ করতে না পারলে মহালয়া অমাবস্যায় পূর্বপুরুষদের স্মরণ করা যায়। যাঁদের মৃত্যুতিথি জানা নেই, তাঁদের জন্যও এই দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
7
14
শুধু বাবা, ঠাকুরদা বা পরিবারের নির্দিষ্ট কোনও পূর্বপুরুষ নয়, পরিবারের পরিচিত ও অজ্ঞাত পূর্বপুরুষদের স্মরণ করেও তর্পণ করা হয়। পিতৃ ও মাতৃ—দুই দিকের পূর্বপুরুষকেই স্মরণ করার রীতি রয়েছে।
8
14
তর্পণের ক্ষেত্রে সাধারণত জল, কালো তিল এবং কুশ ব্যবহার করা হয়। পূর্বপুরুষদের নাম ও গোত্র স্মরণ করে নিয়ম মেনে এই অর্ঘ্য দেওয়া হয়। পরিবারের রীতি বা পুরোহিতের নির্দেশ অনুযায়ী উপকরণে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।
9
14
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী বাড়িতে অথবা নিকটস্থ গঙ্গার ঘাট বা পুকুরে তর্পণ করা যায়। তবে বিস্তারিত শ্রাদ্ধ বা পিণ্ডদানের মতো আচার করতে হলে অনেক পরিবার পুরোহিতের সাহায্য নেন।
10
14
কোনও পূর্বপুরুষের মৃত্যুতিথি জানা না থাকলে মহালয়া অমাবস্যায় তাঁদের উদ্দেশ্যে শ্রাদ্ধ বা তর্পণ করার রীতি রয়েছে। এই কারণেই দিনটিকে সর্বপিতৃ অমাবস্যা বলা হয়—অর্থাৎ সকল পূর্বপুরুষকে স্মরণের দিন।
11
14
এই দিনে পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে অন্ন, বস্ত্র, কালো তিল বা সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস দান করার রীতি রয়েছে। দরিদ্র বা প্রয়োজনমতো মানুষের পাশে দাঁড়ানোও অনেক পরিবার পুণ্যের কাজ হিসেবে মনে করে।তর্পণের পাশাপাশি পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে পিণ্ডদানের রীতিও রয়েছে। সাধারণত পুরোহিতের নির্দেশ মেনে এই আচার সম্পন্ন করা হয়। বিভিন্ন পরিবার ও অঞ্চলে পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকতে পারে।
12
14
বাংলায় মহালয়া মানেই দুর্গাপুজোর আগমনী সুর। মহালয়ার ভোরে চণ্ডীপাঠ ও ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ শোনার দীর্ঘদিনের রীতি রয়েছে। একই দিনে একদিকে পিতৃস্মরণ, অন্যদিকে দেবীপক্ষের আগমনের আবহ তৈরি হয়। ২০২৬ সালে মহালয়া অমাবস্যার পরের দিন, ১১ অক্টোবর রবিবার, শুরু হবে নবরাত্রি। অর্থাৎ পিতৃপক্ষ শেষ হওয়ার পরই শুরু হবে দেবী আরাধনার পর্ব।
13
14
মহাভারতের কর্ণকে ঘিরে একটি জনপ্রিয় কাহিনি পিতৃপক্ষের সঙ্গে জড়িত। কথিত আছে, জীবনে তিনি প্রচুর সোনা দান করলেও পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে খাদ্য দান করেননি। সেই কারণেই পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে অন্ন ও জলদানের গুরুত্ব বোঝাতে এই কাহিনি বলা হয়।
14
14
মহালয়া অমাবস্যা শুধু একটি ধর্মীয় তিথি নয়, বহু পরিবারের কাছে পূর্বপুরুষদের স্মরণ করার দিন। তর্পণ, শ্রাদ্ধ, দান কিংবা নিজের মতো করে তাঁদের স্মরণ—পারিবারিক রীতি মেনে এই দিনটি পালন করা হয়। তবে নির্দিষ্ট আচার পালনের ক্ষেত্রে স্থানীয় পঞ্জিকা ও পরিবারের পুরোহিতের পরামর্শ মেনে চলাই ভাল।