রান্নার গ্যাসের তীব্র সঙ্কটে বিপাকে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ। কোথাও এলপিজির দাম প্রতি কেজি ৭৫০ পাকিস্তানি রুপিতে পৌঁছেছে। ফলে একটি সিলিন্ডার কিনতে খরচ হচ্ছে ১০ হাজার রুপিরও বেশি। তার উপর বন্ধ হাজার হাজার গ্যাসের দোকান।
2
12
ইরানের সঙ্গে সীমান্তপথে বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানে এলপিজি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ১৭ অক্টোবর থেকে গুরুত্বপূর্ণ গ্বাদ-রিমদান ও তাফতান সীমান্তপথে বাণিজ্য বিঘ্নিত হওয়ায় গ্যাসের ঘাটতি বেড়েছে।
3
12
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কয়েকটি এলাকায় এলপিজির দাম কেজিপ্রতি ৭৫০ পাকিস্তানি রুপিতে পৌঁছেছে। অন্য কিছু বাজারেও সরকারি নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক বেশি দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
4
12
পাকিস্তানের তেল ও গ্যাস নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ওজিআরএ) চলতি মাসে এলপিজির সরকারি দাম কেজিপ্রতি ২৭৯.৩৪ পাকিস্তানি রুপি নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু অভিযোগ, বেশ কিছু বাজারে ক্রেতাদের কেজিপ্রতি ৫৫০ থেকে ৬০০ রুপি পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।
5
12
গ্যাসের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার মধ্যেই ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। লাহোর-সহ পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে প্রায় ৫,৫০০ থেকে ৬,০০০টি এলপিজির দোকান বন্ধ রয়েছে বলে বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
6
12
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে বড় সরবরাহকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নিয়ে ছোট দোকানদারদের উপরই চাপ সৃষ্টি করছে প্রশাসন। তদন্তকারী সংস্থার হয়রানি, জরিমানা এবং গ্যাস ভরার যন্ত্র বাজেয়াপ্ত করার অভিযোগ তুলে দোকান বন্ধ রেখেছেন তাঁরা।
7
12
এক দোকানদার কাশিফ বিলাল আসগরের অভিযোগ, এলপিজি ভরার পাম্প বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রতিটি পাম্পের দাম ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার পাকিস্তানি রুপি। পাশাপাশি দোকানদারদের ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার রুপি পর্যন্ত জরিমানার মুখেও পড়তে হচ্ছে।
8
12
এলপিজি কিনতে না পেরে অনেক পরিবার বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। রান্নার জন্য ব্যবহার করতে হচ্ছে কাঠ ও কয়লা। কিন্তু চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিকল্প জ্বালানির দামও বাড়ছে। ফলে সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
9
12
পাকিস্তান এলপিজির চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ আমদানি করে। পাকিস্তান এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে প্রতিদিন প্রায় সাত হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আসে। এর মধ্যে চার হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি গ্যাস গ্বাদ-রিমদান সীমান্তপথ দিয়ে প্রবেশ করে।
10
12
সীমান্ত বন্ধ থাকায় শুধু এলপিজি সরবরাহ নয়, দুই দেশের বাণিজ্যেও প্রভাব পড়েছে। একাধিক পণ্যবাহী ট্রাক সীমান্তে আটকে পড়ে। ইরানে পাঠানোর জন্য পাকিস্তানের আলু, কলা ও চালবোঝাই এক হাজারেরও বেশি কন্টেনার আটকে পড়েছে।
11
12
এক সপ্তাহের স্থগিতাবস্থার পর গ্বাদ-রিমদান সীমান্তপথে বাণিজ্য আংশিকভাবে ফের শুরু হয়েছে। তবে সব ধরনের পণ্য ও গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে প্রশাসনের ধারণা। ফলে বাজারে এলপিজির দাম কবে কমবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গিয়েছে।
12
12
এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। সীমান্ত বাণিজ্য পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়া এবং সরবরাহ বাড়ার উপরই এখন অনেকটা নির্ভর করছে পাকিস্তানের রান্নার গ্যাসের সঙ্কট কাটার সম্ভাবনা।