মধ্য এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি সরবরাহে চাপ ক্রমশ বাড়ছে, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস ব্যবস্থায়। কেন্দ্রীয় সরকার নতুন করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, একটি ১৪.২ কেজি গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডার ডেলিভারির পর পরবর্তী রিফিল বুক করতে হলে এখন থেকে কমপক্ষে ৩৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। আগে এই ব্যবধান ছিল ২৫ দিন।
2
7
ডিস্ট্রিবিউটরদের মতে, এই নতুন নিয়ম ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে এবং শহরের বিভিন্ন ডিলারদের কাছে সংশোধিত মূল্য তালিকাও পৌঁছে গিয়েছে। বিশেষ করে শহুরে এলাকায় যেসব পরিবারে ডাবল-সিলিন্ডার সংযোগ রয়েছে—অর্থাৎ একইসঙ্গে দু’টি সিলিন্ডার রাখা যায়—তাদের জন্য এই নিয়ম বড় প্রভাব ফেলবে। কারণ, তারা এখন আর আগের মতো দ্রুত রিফিল বুক করতে পারবেন না।
3
7
সরকার পরিচালিত প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় থাকা গ্রাহকদের ওপরেও এই নিয়মের কোপ পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডিস্ট্রিবিউটরদের মতে, আগের ২৫ দিনের সীমা মূলত সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক রাখতে চালু করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে মধ্য এশিয়াতে সংঘাতের কারণে এলপিজি সরবরাহে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা এখনও কাটেনি। বরং নতুন করে সময়সীমা বাড়ানোই প্রমাণ করছে যে পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক।
4
7
শুধু গৃহস্থালি এলপিজিই নয়, বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি আরও কঠিন। ১৯ কেজির কমার্শিয়াল এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। ছোট রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান এবং হোটেল ব্যবসায়ীরা এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
5
7
পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য কমার্শিয়াল এলপিজির অতিরিক্ত ২০% বরাদ্দ অনুমোদন করেছে। ফলে মোট বরাদ্দ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০%-এ। তবে ডিস্ট্রিবিউটরদের বক্তব্য, এই বাড়তি বরাদ্দের প্রভাব বাস্তবে দেখতে আরও অন্তত দুই থেকে তিন দিন সময় লাগবে।
6
7
এই পরিস্থিতিতে বহু ছোট খাবারের দোকান ব্যবসা চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। খরচ বাড়ার পাশাপাশি গ্যাসের অপ্রতুলতার কারণে অনেকেই বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন। এমনকি কিছু পরিবার ও ছোট ব্যবসায়ী আবারও কাঠ জ্বালিয়ে রান্নার মতো পুরনো পদ্ধতিতে ফিরে যাচ্ছেন।
7
7
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাব যে কীভাবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি পড়ছে, এই এলপিজি সঙ্কট তারই একটি বড় উদাহরণ। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা এখনই বলা কঠিন—তবে আপাতত গ্যাস ব্যবহারে আরও সাশ্রয়ী হওয়াই একমাত্র উপায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।