পড়শির পুকুরে নগ্ন হয়ে সাঁতার যুবতীর, পুলিশ আসতেই পুলিশকে যা দেখালেন তিনি....
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১০ : ৪৬
শেয়ার করুন
1
6
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে এক অদ্ভুত ও একই সঙ্গে উদ্বেগজনক ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৪১ বছর বয়সি এক মহিলা। পুলিশের দাবি, তিনি নিজেকে “জলপরি” ভাবছিলেন এবং সেই কারণেই প্রতিবেশীর পুকুরে নগ্ন অবস্থায় সাঁতার কাটছিলেন। ঘটনাটি মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ইউনিয়ন প্যারিশ এলাকায় ঘটে।
2
6
স্থানীয় বাসিন্দারা ৯১১ নম্বরে ফোন করে পুলিশে অভিযোগ জানান যে ওই মহিলা তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ করে পুকুরে নেমে পড়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর ইউনিয়ন প্যারিশ শেরিফ দপ্তরের ডেপুটিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। অভিযুক্ত মহিলার নাম এরিন এলিজাবেথ সাটন।
3
6
পুলিশ পৌঁছানোর পর সাটন পুকুর থেকে উঠতে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তিনি “মারমেইড হওয়ার চেষ্টা করছেন।” পুলিশ জলাশয় ছাড়তে বললে তিনি তার রুদ্র মূর্তি দেখিয়ে চিৎকার শুরু করেন। কেন তিনি নিজেকে মারমেইড ভাবছিলেন বা এমন আচরণ করছিলেন, সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা তিনি দেননি বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম US Weekly।
4
6
শেষ পর্যন্ত পুলিশ তাঁকে পুকুর থেকে তুলে আনে এবং তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা যাচাইয়ের জন্য জরুরি চিকিৎসা পরিষেবাকে ডাকা হয়। কিন্তু পরিস্থিতি তখন আরও খারাপ হয়ে যায়। পুলিশ যখন তাঁকে বাড়ির ভিতরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল, তখন হঠাৎ করেই তিনি এক ডেপুটির দিকে তেড়ে যান। শেরিফ দপ্তরের অভিযোগ অনুযায়ী, আত্মরক্ষার জন্য ডেপুটি বৈদ্যুতিক শকের ব্যবহার করেন। তবে বৈদ্যুতিক শকের কোনও প্রভাবই সাটনের ওপর পড়েনি। তিনি দৌড়ে গিয়ে ওই ডেপুটিকে লাথি ও ঘুষি মারেন। পরে একাধিক পুলিশকর্মী তাঁকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।
5
6
পুলিশের আরও অভিযোগ, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেও সাটন ডেপুটি ও প্যারামেডিকদের প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন। ঘটনার পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বলপ্রয়োগ করে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া, পুলিশকে ভয় দেখানো, পুলিশকর্মীর ওপর হামলা, শান্তিভঙ্গ, মদ্যপ অবস্থায় বিশৃঙ্খলা এবং অনধিকার প্রবেশ।
6
6
আদালত তাঁর জামিনের পরিমাণ নির্ধারণ করেছে ৬২ হাজার মার্কিন ডলার। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, এটি প্রথমবার নয়—এর আগেও সাটন ওই পুকুরে ঢুকেছেন এবং বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও তিনি তা উপেক্ষা করেছেন। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় পুলিশে খবর দিতে বাধ্য হন তাঁরা। এই ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে এবং একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য, মাদকাসক্তি ও এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।