'আমাদের বাঁচান', পাকিস্তানের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে গোপনে ছড়াচ্ছে নতুন মরণব্যাধি 'বরফ'! শুনলে শিউরে উঠবেন আপনিও
১৩ আগস্ট ২০২৬ ১৫ : ৫৬
- 1
- 10
ইসলামাবাদের রাজপথ আর কূটনৈতিক এলাকাগুলোর ঝকঝকে আবহের আড়ালে গড়ে উঠেছে এক ভয়াবহ ও নীরব মহামারী। মাসজুড়ে পাকিস্তানের রাজধানীর অন্ধকার গলিগুলোতে ঘুরে বেরিয়ে এসে ফাঁস হয়েছে এক আশঙ্কাজনক সত্য: দেশের তরুণ প্রজন্ম আজ মাদকের গ্রাসে। এখানে আশা খোঁজার চেয়ে মাদক যোগাড় করা অনেক সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা ও চরম সামাজিক চাপে এই সংকট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
- 2
- 10
পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে শিউরে উঠতে হয়। পাকিস্তানে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৭০ লাখ ছাড়িয়েছে, যার বড় অংশই তরুণ। রাজধানী ইসলামাবাদও এর ব্যতিক্রম নয়; এখানকার প্রায় ৮ শতাংশ তরুণ নেশায় ডুবে আছে, যার মধ্যে অতিমাত্রায় ক্ষতিকর ক্রিস্টাল মেথ বা ‘আইস’ ব্যবহারের হার ৩০ শতাংশের মতো। অ্যান্টি-নারকোটিকস ফোর্সের (এএনএফ) একটি রিপোর্ট তো আরও ভীতিকর দৃশ্য তুলে ধরে—১৮ থেকে ৩১ বছর বয়সী প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ শিক্ষার্থী মাদকাসক্তির সঙ্গে লড়ছে। আফগানিস্তানে ২০২২ সালে তালিবানের আফিম চাষ নিষিদ্ধের পর সিন্থেটিক ও রাসায়নিক মাদকের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
- 3
- 10
পাঞ্জাবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা যারা ইসলামাবাদে যাতায়াত করে, তাদের মধ্যেও এই প্রবণতা প্রবল। পরিসংখ্যান বলছে, ইসলামাবাদের স্কুল-কলেজের প্রায় ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনও না কোনওভাবে মাদকের ছোঁয়া পেয়েছে, আর পাঁচজনে একজন অন্তত একবার পরীক্ষা করে দেখেছে। এই বাস্তবতা পুরো সমাজকে অপরাধ ও দারিদ্র্যের চক্রে ঠেলে দিচ্ছে। এক শিক্ষার্থী যেমনটি আক্ষেপ করে বলছিল, "পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার চেয়ে মাদক পাওয়া এখন অনেক সহজ।"
- 4
- 10
এই সব পরিসংখ্যানের পেছনে লুকিয়ে আছে বহু ক্ষতবিক্ষত জীবনের গল্প। ২০ বছর বয়সী ছাত্র আহমেদ জানাচ্ছিল, হোস্টেলের একটি পার্টিতে কৌতূহল থেকে তার হাশিশ খাওয়া শুরু। কিন্তু খুব দ্রুতই সে বিপজ্জনক 'আইস'-এ আসক্ত হয়ে পড়ে। ক্যাফেটেরিয়ার পাশে কিংবা পার্কিং লটে পিৎজা ডেলিভারির মতোই এখন মাদক পৌঁছে যায়। পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখার বাহানায় শুরু হলেও এখন স্মৃতিভ্রষ্টতা, চরম মানসিক বিভ্রান্তি আর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতাই তার নিত্যসঙ্গী। অনেক সময় বন্ধুদের ওভারডোজ হলেও কেলেঙ্কারি ও পুলিশি ঝামেলা এড়াতে তারা নিজেরাই তা ধামাচাপা দেয়।
- 5
- 10
মহিলা শিক্ষার্থীদের গল্পটা আরও আড়ালে, কিন্তু সমান ভয়াবহ। সানা নামের এক ছাত্রী জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মেসেজে বার্তা পাঠিয়ে পার্ক বা শপিংমলের বাথরুমে মাদক লেনদেন হয়। পারিবারিক চাপ আর অনলাইনের চাকচিক্যময় জীবনের পেছনে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে সে প্রথমে প্রেসক্রিপশনের ওষুধ ও পরে হেরোইনে ঝুঁকে পড়ে। ওভারডোজের পর যখন তাকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়, তখন তার পরিবার ঘটনাটি 'প্যানিক অ্যাটাক' বলে চালিয়ে দেয়।
- 6
- 10
আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিলাল রাজপথের পথশিশুদের মাধ্যমে ইনজেকশনে মাদক নেওয়া শুরু করে দারিদ্র্যের জ্বালা ভুলতে। দু-দুবার ওভারডোজের শিকার হয়েও হাসপাতালে অবহেলা ও চরম সামাজিক কুসংস্কারের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরগুলো এখন নজরদারির অভাব ও সহপাঠীদের চাপে মাদকের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
- 7
- 10
চাহিদার এই বিশাল জোগানের পেছনে কাজ করছে এক সংঘবদ্ধ সাপ্লাই চেন। খালিদ নামে এক মাঝারি মাত্রার মাদক ব্যবসায়ী জানায়, এনক্রিপ্টেড হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আর ডেলিভারি বাইকের মাধ্যমে তাদের ব্যবসা চলে। বিত্তশালী ছাত্ররা 'আইস'-এর জন্য চড়া দাম দেয়। বেলুচিস্তানের চোরাচালানকারীদের কাছ থেকে আনা এই বিষের পথ বদল করে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেয়।
- 8
- 10
পুলিশ বড় চালান ধরলেও খুচরো লেনদেন তাদের চোখ এড়িয়ে যায়। অন্যদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফটকে হকারের ছদ্মবেশে মাদক বিক্রি করা ফারুক জানায়, তাদের জালে নিত্যদিন নতুন শিকার ধরা পড়ে। কিছু কর্মকর্তার দুর্নীতি এবং পুলিশের সীমাহীন নজরদারির অভাবকে তারা পুঁজি করে চলেছে। ক্রেতার ওভারডোজে মৃত্যু হলেও তাদের ব্যবসা থামে না।
- 9
- 10
প্রশ্ন ওঠে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাকের ডগায় কীভাবে এই কারবার বিস্তার লাভ করছে? পুলিশ ও এএনএফ অভিযানে শত শত গ্রেপ্তার করলেও বিপুল ভিআইপি নিরাপত্তার দায়িত্ব, সীমান্ত পেরিয়ে আসা মাদকের অনিয়ন্ত্রিত প্রবাহ এবং অনলাইন কেনাবেচার কারণে নজরদারি থমকে যাচ্ছে। তার ওপর যুক্ত হয়েছে সামাজিক লজ্জা ও কুসংস্কার, যার ফলে পরিবারগুলো সত্যটি চেপে যায় এবং অপরাধীরা পার পেয়ে যায়।
- 10
- 10
















