ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের শেখানো হয়, কাঁদবে না, ভয় পাবে না, দুর্বলতা দেখাবে না। আবেগ প্রকাশ যেন পুরুষত্বের বিরোধী। সমাজের তৈরি এই ধারণাগুলিই অনেক সময় ছেলেদের নিজের অনুভূতি লুকিয়ে রাখতে শেখায়। ‘Agni – Today’s Heroes’ সেই পুরনো ধারণার সামনে দাঁড়িয়ে নতুন প্রশ্ন তুলতে চায়, পুরুষ হওয়া কি সত্যিই মানে সবসময় শক্ত থাকার অভিনয় করা?
2
6
পরিবার, বন্ধুত্ব, স্কুল, সমাজের প্রতিটি জায়গাতেই ছেলেদের জন্য তৈরি থাকে কিছু অলিখিত নিয়ম। কীভাবে কথা বলতে হবে, কেমন আচরণ করতে হবে, কীভাবে সম্পর্ক তৈরি করতে হবে, সবকিছুর মধ্যেই কাজ করে ‘পুরুষত্ব’-এর নির্দিষ্ট ধারণা। এই সামাজিক প্রত্যাশাগুলি অনেক সময় ছেলেদের চিন্তা, সিদ্ধান্ত, সম্পর্ক এবং আবেগকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
3
6
মনেরজ্যোতি ফাউন্ডেশনের Agni – Today’s Heroes উদ্যোগ মূলত ছেলে ও তরুণদের সঙ্গে অর্থপূর্ণ কথোপকথনের মাধ্যম। তারা নিজেদের কীভাবে দেখে? সমাজ তাদের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করে? সেই প্রত্যাশাগুলি তারা কতটা নিজের বলে মনে করে? এই প্রশ্নগুলির উত্তর খোঁজার মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে এমন একটি পরিসর, যেখানে কথা বলা যায় লিঙ্গ, পিতৃতন্ত্র এবং পুরুষত্ব নিয়ে।
4
6
ভয় পাওয়া, কষ্ট পাওয়া, মন খারাপ হওয়া বা সাহায্য চাওয়ার মতো অনুভূতি মানুষের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু ছেলেদের ক্ষেত্রে এগুলিই অনেক সময় ‘দুর্বলতা’ হিসেবে চিহ্নিত হয়। Agni সেই ধারণাকে প্রশ্ন করে। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা, নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করা কিংবা প্রয়োজনের সময়ে পাশে কাউকে চাওয়াকেও শক্তির অংশ হিসেবে দেখতে শেখায়।
5
6
এই মাধ্যম শুধু কথা বলার নয়, শেখা এবং ভুলে যাওয়ারও। ছেলেরা নিজেদের মধ্যে থাকা কিছু প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্ন করছে, পুরুষত্ব সম্পর্কে পুরনো বিশ্বাসকে নতুন করে দেখছে এবং বুঝতে চাইছে যে কীভাবে আরও স্বাস্থ্যকর, সমানাধিকারভিত্তিক সম্পর্ক তৈরি করা যায়। ‘পুরুষ হওয়া’র সংজ্ঞাটাই নতুন করে ভাবার চেষ্টা।
6
6
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা খুব সহজ, ‘আমি কেমন মানুষ হতে চাই? Agni – Today’s Heroes সেই উত্তর খোঁজার পথ তৈরি করছে। যেখানে পুরুষত্ব মানে শুধু কঠিন হওয়া নয়; বরং সহমর্মী হওয়া, নিজের আবেগকে বুঝতে শেখা, অন্যকে সম্মান করা এবং সমতার পাশে দাঁড়ানো।