ভারতবর্ষে ধর্মীয় আস্থা যেমন গভীর, তেমনই সেই আস্থার চারপাশে জন্ম নিয়েছে অসংখ্য লোককথা, অলৌকিক বিশ্বাস ও অদ্ভুত আচার। দেশের নানা প্রান্তে এমন কিছু মন্দির রয়েছে, যেগুলো শুধুই পূজাস্থল নয়, বরং সেই সব জায়গা হয়ে উঠেছে রহস্য, ভয়ের অনুভূতি এবং অতিপ্রাকৃত বিশ্বাসের কেন্দ্র। ভক্তদের কাছে এগুলি অলৌকিক শক্তির প্রমাণ, আবার পর্যটকদের কাছে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার ঠিকানা।
2
10
ভূত তাড়ানোর আচার: মেহেন্দিপুর বালাজি মন্দির
(রাজস্থান)
রাজস্থানের এই মন্দিরে প্রতিদিনই নাকি চলে ভূত তাড়ানোর বিশেষ আচার। বিশ্বাস করা হয়, অশুভ আত্মা আক্রান্ত মানুষদের এখানে এনে বিশেষ মন্ত্র ও পূজার মাধ্যমে মুক্তি দেওয়া হয়। মন্দিরের পরিবেশ, চিৎকার, আর আচারের তীব্রতা অনেকের কাছেই বিস্ময় ও শিহরণের উপাদান।
3
10
রাত নামলেই নিষিদ্ধ: নিধিবন মন্দির
(বৃন্দাবন, উত্তর প্রদেশ)
বৃন্দাবনের এই স্থানে বিশ্বাস করা হয়, প্রতি রাতে কৃষ্ণ ও রাধা রাসলীলা করেন। সূর্যাস্তের পর তাই এখানে কেউ থাকতে পারে না। স্থানীয়দের দাবি, যারা নিষেধ অমান্য করেছে, তারা নাকি অদ্ভুত শারীরিক বা মানসিক বিপর্যয়ের শিকার হয়েছে!
4
10
পূর্ণিমায় ‘ভূত মেলা’: দেবজি মহারাজ মন্দির (মধ্যপ্রদেশ)
এই মন্দিরে প্রতি পূর্ণিমায় বসে তথাকথিত ‘ভূত মেলা’। ভক্তরা নিজেদের হাতে কর্পূর জ্বালিয়ে অশুভ শক্তি তাড়ানোর আচার পালন করেন। অনেকেই এটিকে মানসিক চিকিৎসার বিকল্প বিশ্বাস হিসেবে দেখেন।
5
10
দেবীর উদ্দেশে রক্তাক্ত আচার:কোদুনগাল্লুর ভগবতী মন্দির (কেরল)
কেরলের এই মন্দিরে ভরনী উৎসবের সময় ভক্তরা লাল পোশাক পরে দেবীর উদ্দেশ্যে তারস্বরে চিৎকার করেন, তলোয়ার দিয়ে নিজেদের আঘাত করেন। দেবীমূর্তির উদ্দেশ্যে চিৎকার করে জানায়, তাঁদের মুণ্ডু যেন নিজের হাতে তলোয়ার দিয়ে কেটে ফেলেন দেবী! গবেষকদের মতে, এটি প্রাচীন তন্ত্র ও লোকবিশ্বাসের মিশ্র ঐতিহ্য।
6
10
ইঁদুরের রাজত্ব: কর্নি মায়ের মন্দির (রাজস্থান)
এই মন্দিরে হাজার হাজার ইঁদুরকে দেবীর বাহন হিসেবে পূজা করা হয়। আশ্চর্যের বিষয়, এত ইঁদুর থাকা সত্ত্বেও রোগ ছড়ানোর ঘটনা প্রায় শোনা যায় না, যা স্থানীয়দের কাছে অলৌকিক আশীর্বাদ।
7
10
মাটিতে না ছোঁয়া স্তম্ভ:বীরভদ্র মন্দির (লেপাক্ষী, অন্ধ্র প্রদেশ )
ষোড়শ শতাব্দীতে তৈরি এই মন্দিরের একটি স্তম্ভ মাটিতে পুরোপুরি স্পর্শ করে না। নীচে স্পষ্ট ফাঁক রয়েছে, যেখানে কাপড় বা কাগজ ঢুকিয়ে দেওয়া যায়। কী করে এহেন স্থাপত্য সম্ভব হল? স্থাপত্যবিদদের কাছেও এটি আজও বিস্ময়ের বিষয়।
8
10
দেবীর ‘রজঃস্রাব’ উৎসব: কামাক্ষ্যা দেবীর মন্দির (অসম)
অসমের এই শক্তিপীঠে বছরে একবার আম্বুবাচী মেলা পালিত হয়, যখন বিশ্বাস করা হয় দেবী রজঃস্রাব করছেন। তিনদিন মন্দির বন্ধ থাকে। তারপর শুরু হয় এক বিশাল উৎসব।
9
10
আত্মার মুক্তিক্ষেত্র: প্রেতশিলার মন্দির (বিহার)
গয়ার এই পাহাড়কে আত্মার মুক্তিস্থান বলা হয়। অনেক পরিবার এখানে পিণ্ডদান করে বিশ্বাস করেন, মৃত আত্মারা মুক্তি পায়।
10
10
বিশ্বাস বনাম ব্যাখ্যা
এই সব মন্দিরের গল্পে যেমন আছে আধ্যাত্মিক বিশ্বাস, তেমনই রয়েছে ইতিহাস, সমাজমনস্তত্ত্ব ও লোকসংস্কৃতির প্রভাব। গবেষকরা বলেন, বহু আচার আসলে মানুষের ভয়, শোক বা অজানার ব্যাখ্যা খোঁজার প্রচেষ্টা। তবুও সত্যি এই যে এসব স্থানগুলি আজও ভক্তদের টানে, পর্যটকদের আকর্ষণ করে, আর ভারতের বহুমাত্রিক ধর্মীয় সংস্কৃতিকে নতুন করে চিনতে সাহায্য করে।