আয়কর রিটার্ন দ্রুত জমা দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বরং অনেক ক্ষেত্রেই আগেভাগে রিটার্ন জমা দেওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, নতুন আর্থিক তথ্য যুক্ত হওয়ায় হাজার হাজার করদাতাকে আবারও সংশোধিত রিটার্ন জমা দিতে হচ্ছে।
2
12
বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়কর দফতরের তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত ও স্বয়ংক্রিয়। ফলে বিভিন্ন ব্যাংক, নিয়োগকারী সংস্থা, মিউচুয়াল ফান্ড, ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য আর্থিক সংস্থা ধাপে ধাপে তথ্য আপলোড করে। এই তথ্য অনেক সময় রিটার্ন জমা দেওয়ার পরেও AIS -এ যুক্ত হয়।
3
12
বর্তমানে করদাতার বেতন, সুদের আয়, লভ্যাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড ও শেয়ার লেনদেন, সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়, বিদেশে অর্থ পাঠানো এবং বড় অঙ্কের খরচসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক তথ্য এক জায়গায় তুলে ধরে।
4
12
কিন্তু এই তথ্য সবসময় একসঙ্গে আপডেট হয় না। ফলে যারা খুব তাড়াতাড়ি রিটার্ন জমা দেন, তাঁদের পরে আরও সম্পূর্ণ হলে অতিরিক্ত আয়ের তথ্য সামনে আসতে পারে। তখন রিটার্ন সংশোধন করা ছাড়া আর উপায় থাকে না।
5
12
বিশেষজ্ঞদের মতে, চতুর্থ ত্রৈমাসিকের টিডিএস সংক্রান্ত তথ্য অনেক সময় দেরিতে আপলোড হয়। ব্যাংক, নিয়োগকারী সংস্থা বা অন্যান্য রিপোর্টিং এজেন্সি তথ্য জমা দেওয়ার পর নতুন এন্ট্রি দেখা যায়। যদি সেই তথ্য প্রথম রিটার্নে উল্লেখ না থাকে, তাহলে সংশোধিত রিটার্ন জমা দেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
6
12
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, আয়কর আইনের ধারা 139(5) অনুসারে করদাতারা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অথবা অ্যাসেসমেন্ট সম্পূর্ণ হওয়ার আগে, যেটি আগে হবে, সংশোধিত রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
7
12
তবে ফিন্যান্স বিল ২০২৬-এ এই সময়সীমা ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। যদিও ডিসেম্বরের পর সংশোধিত রিটার্ন জমা দিলে অতিরিক্ত ফি দিতে হতে পারে।
8
12
এছাড়া নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও ধারা 139(8A)-এর অধীনে আপডেটেড রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর ও অন্যান্য চার্জ দিতে হতে পারে।
9
12
কর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বারবার রিটার্ন সংশোধনের পরিবর্তে প্রথমবারেই সঠিক তথ্য দিয়ে রিটার্ন জমা দেওয়াই সবচেয়ে ভালো উপায়। তাই রিটার্ন ফাইল করার আগে AIS, TIS, Form 26AS, Form 16, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সুদের সার্টিফিকেট, ক্যাপিটাল গেইন রিপোর্ট এবং ব্রোকারেজ স্টেটমেন্ট ভালোভাবে মিলিয়ে দেখা উচিত।
10
12
যদি কোনও ভুল তথ্য দেখা যায়, তাহলে 'Report Incorrect Information' অপশন ব্যবহার করে সংশোধনের আবেদনও করা যেতে পারে।
11
12
বিশেষ করে যাঁদের একাধিক আয়ের উৎস, শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ, বিদেশে অর্থ লেনদেন কিংবা ক্যাপিটাল গেইন রয়েছে, তাঁদের আরও বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
12
12
সঠিক নথি মিলিয়ে রিটার্ন জমা দিলে ভবিষ্যতে সংশোধনের ঝামেলা, অতিরিক্ত করের বোঝা এবং আয়কর দফতরের বাড়তি নজরদারি—সবই অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব। তাই তাড়াহুড়ো করে রিটার্ন ফাইল না করে, সমস্ত তথ্য যাচাই করে তারপর রিটার্ন জমা দেওয়াই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।