প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে জলবায়ু পরিবর্তন কিংবা নানা ধর্মগ্রন্থের আভাস। পৃথিবী ধ্বংস নিয়ে রয়েছে ইঙ্গিত। যুগ যুগ ধরে এনিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীদের। এবার সেই বিষয়ে ফের চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিজ্ঞান জগতে। প্রকাশ্যে এসেছে এক ঐতিহাসিক নথি। যেখানে রয়েছে পৃথিবী কবে ধ্বংস হবে, তা নিয়ে ভয়ঙ্কর আভাস। খোদ জগৎবিখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটন করেছেন সেই ভবিষ্যদ্বাণী।
2
7
নিউটন নাকি লিখে গিয়েছিলেন পৃথিবীর শেষের সঠিক বছর! প্রায় ৩০০ বছর আগের এক চিঠিতে নিউটন গণিত ও ধর্মতত্ত্বের সমন্বয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। ২০৬০ সালেই পৃথিবীর শেষ ঘটবে, এমনই মত প্রকাশ করেছিলেন বিজ্ঞানী।
3
7
কানাডার নিউটন প্রেজেক্টের পরিচালক স্টিফেন স্নোবেলেন জানিয়েছেন, নিউটনের মুখে প্রায়ই শোনা যেত বাইবেলের নানা গাথা। নিজের একটি ব্লগে স্টিফেন স্নোবেলেন লেখেন, “স্যর আইজ্যাক নিউটন ইশ্বরে বিশ্বাস করতেন। বাইবেলের উপরও তাঁর আস্থা ছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন একদিন পৃথিবী শেষ পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে যাবে। তবে বাইবেলের ভাষা সরাসরি কখনও ব্যবহার করেননি বিজ্ঞানী। খ্রিস্টানদের এই ধর্মগ্রন্থ থেকে তথ্য নিয়ে হিসাবনিকেশ করেছিলেন নিউটন।“
4
7
নিউটনের লেখা একটি ব্যক্তিগত চিঠিতে এই হিসাব পাওয়া গেছে। বাইবেলের ‘বুক অফ ড্যানিয়েল’ ও ‘রেভেলেশন’-এর কিছু অংশ বিশ্লেষণ করে এক অদ্ভুত গণনা করেছিলেন । সেই গণনার ফলাফল হিসেবে লিখেছিলেন, “পৃথিবী ২০৬০ সালের পর টিকবে না।”
5
7
চিঠির রহস্য ঠিক কী? নিউটনের এই চিঠি মূলত তাঁর ধর্মীয় গবেষণার অংশ ছিল। নিউটন জীবনের শেষভাগে ধর্ম ও মহাজগতের সম্পর্ক নিয়ে গভীর চিন্তা করেন। তিনি মনে করতেন, বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর মধ্যে এমন কিছু সূত্র আছে যা দিয়ে মানব সভ্যতার শেষ সময় অনুমান করা সম্ভব। চিঠিটিতে তিনি লিখেছিলেন, “আমি কোনো রহস্য জানি না, শুধু হিসেব দেখাচ্ছে ২০৬০ সালের আগে পৃথিবীর শেষ হবে না।” অর্থাৎ, তাঁর মতে পৃথিবী ২০৬০ পর্যন্ত টিকে থাকবে, এরপর হয়তো এক ‘নতুন যুগ’ শুরু হবে।
6
7
ইতিহাসবিদ ও বিজ্ঞান গবেষকরা অবশ্য এই দাবিকে একটু ভিন্নভাবে দেখছেন। তাঁদের মতে, নিউটন ‘পৃথিবী ধ্বংস হবে’ এমনভাবে বলেননি, বরং তিনি লিখেছিলেন, বর্তমান সভ্যতার এক ধাপের সমাপ্তি ঘটবে। অর্থাৎ এটি ছিল ধর্মীয় রূপক অর্থে লেখা। এপ্রসঙ্গে স্টিফেন স্নোবেলেনের কথায়, “নিউটন আসলে পৃথিবীর শেষ নয়, বরং নতুন এক বিশ্বপর্যায়ের সূচনার কথা বলেছিলেন। মিডিয়া অনেক সময় তাঁর কথাকে অতিরঞ্জিতভাবে প্রচার করে।”
7
7
বিজ্ঞানীদের মতে, এমন ভবিষ্যদ্বাণীকে সরাসরি বিশ্বাস করা উচিত নয়। ইতিহাসে বহুবার ‘পৃথিবীর শেষ’ বলে নানা ভবিষ্যদ্বাণী সামনে এসেছে, কিন্তু তার কোনও বাস্তব প্রমাণ মেলেনি। যদিও নিউটনের এই “২০৬০ সালের ভবিষ্যদ্বাণী” নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন পড়েছে। তবে ইতিহাসবিদদের মনে করেন, এটি ভয় পাওয়ার বিষয় নয়, বরং মানুষকে সচেতন করে ভাবতে শেখা উচিত। কারণ নিউটনের কথায়, ‘সময়ের শেষ মানেই ধ্বংস নয়, বরং নবজাগরণের সূচনা।‘