আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। নিহত হয়েছেন তিনি। এমনটাই দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের দাবির পরেই, তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। নিহত খামেনেই, তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য, পরামর্শদাতা।
2
10
এই পরিস্থিতিতে, ফিরে দেখা তাঁর প্রায় চার দশকের সময়কাল। একদিকে যেমন ইরানের মসীহা হয়ে উঠেছিলেন তিনি এক সময়ে, অন্যদিকে, সাম্প্রতিককালে তাঁর বিরুদ্ধেই ফুঁসে উঠেছিল একাংশ।
3
10
পশ্চিমি লাল চোখকে ভয় পাননি। প্রায় ৩৭ বছর ধরে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৯ সালের জুনে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ ভারগ্রহণ করেন। গত কয়েক দশক ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘন, হাজার হাজার মৃত্যুদণ্ড, সহিংসভাবে বিক্ষোভ দমন এবং গণ বৈষম্যের জন্য েক সময়ের মসীহা বিপুল সমালোচনার মধ্যে পড়েছেন।
4
10
তিনি দেশব্যাপী বেশ কয়েকটি বিক্ষোভ দমন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ২০২২ সালে ২২ বছর বয়সী ইরানী মহিলা মাহসা আমিনির সমর্থনে বিক্ষোভ, যিনি কঠোর হিজাব নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর মারা যান। তথ্য, খামেনেইয়ের সময়কালে ৩০ হাজারের বেশি মৃত্যদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। গত বছরেই, খামেনেইয়ের শাসনকালে অন্তত দু'হাজারজনের মৃত্যু দণ্ড হয়।
5
10
ইরানের গ্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজি: আ পলিটিক্যাল হিস্ট্রির লেখক ভালি নাসর লিখেছিলেন, মানুষ [ইরানকে] একটি ধর্মতন্ত্র হিসেবে মনে করে, কারণ তিনি [খামেনেই] পাগড়ি পরেন এবং রাষ্ট্রের ভাষা ধর্মের ভাষা, কিন্তু বাস্তবে, তিনি ছিলেন একজন যুদ্ধকালীন রাষ্ট্রপতি যিনি যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন এই ধারণা নিয়ে যে ইরান দুর্বল এবং নিরাপত্তার প্রয়োজন।
6
10
খামেনেইয়ের এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই ধীরে ধীরে ইরানে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে ইসলামিক রেভিলিউশনারি গার্ড কর্পস। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) একটি আধাসামরিক বাহিনী থেকে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
7
10
খামেনেই পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার শাস্তির মুখে স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির জন্য একটি "প্রতিরোধ অর্থনীতি"ও প্রচার করেছিলেন, পশ্চিমাদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে দৃঢ় সংশয় বজায় রেখেছিলেন বরাবর।
8
10
৩৭ বছরে নানা বিক্ষোভের মুখোমুখি হলেও, সম্ভবত তাঁর শাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল জানুয়ারিতে, যখন অর্থনৈতিক দুর্দশার কারণে সৃষ্ট বিক্ষোভ দেশব্যাপী অস্থিরতায় রূপ নেয়, বিক্ষোভকারীরা সরাসরি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের উৎখাতের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
9
10
খামেনেই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ইরানে, রাজতন্ত্র উৎখাত হওয়ার পর, খামেনেই নতুন ইরান প্রতিষ্ঠায় একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন। তিনি ১৯৮০ সালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে এবং পরে ইরান-ইরাক যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
10
10
খোমেনির উত্তরসূরি, তীব্র শাসনকাল, ৮৬ বছর বয়সেও খামেনেই চেয়েছিলেন, ইরান চলবে তাঁর মতো করে। বারবার বোঝাতে চেয়েছিলেন মাথা নত নয় ইজরায়েল-আমেরিকার কাছে। ইরানের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর, দেশের মোড় কোন দিকে ঘুরবে, ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ কাকে বেছে নেবেন খামেনেইয়ের উত্তরসূরি হিসেবে, নজর সেদিকেই।