রাজ্যে চালু হয়ে গেল আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প। দিল্লিতে বিজ্ঞান ভবনে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে এই প্রকল্পের চুক্তিতে সই করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
2
13
তিনি জানান, রাজ্যের প্রায় দেড় কোট মানুষ এই প্রকল্প দ্বারা উপকৃত হবে। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই ৫২৭ কোটি টাকা দিয়ে দিয়েছে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করার জন্য।
3
13
কেন্দ্রের সঙ্গে মৌ স্বাক্ষরিত হওয়ার পরে দিল্লিতে বিজ্ঞান ভবনে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। বক্তব্যের শুরুতে প্রশাসনের সকল আধিকারিককে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “আগের সরকার কেন্দ্রের কোনও প্রকল্পে যুক্ত হতে রাজি হননি। মানুষ আগের সরকারকে উৎখাত করেছে।”
4
13
তিনি বলেন, “২০১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাঁচি থেকে এই প্রকল্প শুরু করেছিলেন মোদি। কিন্তু ওড়িশা, দিল্লি এবং পশ্চিমবঙ্গ তিনটি রাজ্য প্রকল্প চালু করতে রাজি হয়নি।”
5
13
শুভেন্দুর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা তাঁকে জানিয়েছেন যে, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের আওতায় গত দুই অর্থবর্ষে তৃণমূল সরকার কোনও কাজ করেনি। কেন্দ্রের কোনও গাইডলাইন মানেনি। আয়ুষ্মান মন্দির লেখা থাকায় চুক্তিতে রাজি হয়নি তৃণমূল সরকার।
6
13
তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকারে পূর্ণ সহযোগিতার জন্য কেন্দ্র ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গকে ৫২৭ কোটি টাকা দিয়ে দিয়েছে। এটাই ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল।
7
13
তাঁর দাবি, এই প্রকল্পের ফলে রাজ্যের এক কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার উপকৃত হবেন। রাজ্যের জন্য আরও ৯৭৬ কোটির অনুমোদন করেছে কেন্দ্র। তিনি জানান, ৪৬৭টি জনৌষধি কেন্দ্র খোলার অনুমতি চাওয়া হবে। এর ফলে রাজ্যের গরিব মানুষের উপকার হবে। কেন্দ্রের স্বাস্থ্য প্রকল্পের সব সুবিধা কীভাবে রাজ্যের মানুষকে দেওয়া যায় তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগের যে টাকা আটকে রাখা হয়েছিল তা দিলে কাজ করতে অনেক সুবিধা হবে।
8
13
২০১৮ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত ৪৪ কোটি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত ৩৬,১৯৩টি হাসপাতাল এই প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি হাসপাতাল ১৬,৫৫৭টি।
9
13
শুভেন্দু জানান, ভারত সরকার ১২.১৭ কোটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মানুষকে ১.৮২ লক্ষ কোটি টাকার সুবিধা দিয়েছে কেন্দ্র। যা থেকে পশ্চিমবঙ্গ বঞ্চিত হয়েছে রাজনীতির কারণে। এর মধ্যে ৪৯ শতাংশ কার্ড মহিলাদের দেওয়া হয়েছে। উপকৃতদের মধ্যে ৪৯ শতাংশই মহিলা। ইতিমধ্যেই ১১০০টি বেসরকারি হাসপাতাল এই প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করেছে।
10
13
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, বাংলার অনেকেই পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে অন্য রাজ্যে কাজ করেন। এই আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা শুধু বাংলার মধ্যেই সীমিত থাকবে না। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত তালিকাভুক্ত সকল সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা মিলবে।
11
13
এর পোষাকি নাম ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ (পিএমজেএওয়াই)। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যবাসী পরিবারপিছু বছরে পাঁচ লক্ষ টাকার ক্যাশেলস স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা পাবে।
12
13
এই প্রকল্পে সব ধরনের চিকিৎসাও মেলে না। ওপিডি পরিষেবা, শারীরিক দুর্বলতা, সাধারণ দাঁতের চিকিৎসা, আইভিএফ, কসমেটিক সার্জারির মতো চিকিৎসা এই কার্ডে মেলে না।
13
13
কেন্দ্রের এই প্রকল্পের আওতায় ১,৯২৯ ধরণের চিকিৎসা মিলবে। এর মধ্যে ক্যানসারের কেমোথেরাপি, বাইপাস সার্জারি, কিডনি ডায়ালিসিস, অর্থোপেডিক, গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজির জটিল ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া যাবে আয়ুষ্মান কার্ডে।