সানরাইজার্স হায়দরাবাদের তরুণ রিক্রুট অনিকেত ভার্মাকে নিয়ে চলছে চর্চা। সাধারণ অবস্থা থেকে উঠে আসা এক প্রতিভাকে আইপিএল পৌঁছে দিতে পারে বিশ্বের দরবারে।
2
10
অনিকেত ভার্মার শৈশবের নায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। মাঠে হার্দিকের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং তাঁকে মুগ্ধ করেছে, তেমনি মাঠের বাইরের জীবনের সংগ্রামও তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
3
10
যে গল্পটি ছোট অনিকেতকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছিল, তা হলো কীভাবে হার্দিক পান্ডিয়া এবং তাঁর ভাই ক্রুণাল মারাত্মক আর্থিক সংকটের কারণে টানা তিন বছর শুধু ম্যাগি খেয়ে দিন কাটিয়েছিলেন। গাড়িতে যাওয়ার সময়ে অনিকেত তাঁর কাকাকে বারবার হার্দিকের কঠিন যাত্রা, তাঁর দৈনন্দিন সংগ্রাম এবং কীভাবে তিনি শেষ পর্যন্ত সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছলেন—এসব বিষয়ে বিস্তারিত প্রশ্ন করতেন।
4
10
''সেদিন আমি ওর মধ্যে স্পিরিট, আবেগ আর এক ধরনের তীব্র খিদে দেখেছিলাম। ও বড় কিছু করতে চেয়েছিল। আমরা স্টেডিয়ামে পৌঁছনোর পর আমার পায়ে হাত দিয়ে বলেছিল, আমি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে অভিযোগ করি। আমি হেসেছিলাম, কিন্তু ও সিরিয়াস ছিল।'' কথাগুলো বলছিলেন অনিকেতের কাকা।
5
10
অনিকেত ভার্মা যখন মাত্র তিন বছরের, তখনই তিনি তাঁর মাকে হারান। এক বছর পর তাঁর বাবা ফের বিয়ে করেন। এই সময়ে ঠাকুমা পার্বতী ভার্মা এবং কাকা অমিত তাঁকে দেখাশোনা করার জন্য ভোপালে চলে যান।
6
10
“আমরা ভোপালে চলে যাই। আমি তখন সবে স্কুল শেষ করেছি। আমার প্রয়াত বাবা রেলওয়েতে চাকরি করতেন, তাই আমার মা তাঁর পেনশন পেতেন। তিনি আমাকে এবং অনিকেতকে দেখাশোনা করতেন। আমি ‘মা’ বা ‘মাম্মি’ বলে ডাকতাম, তাই অনিকেতও তাঁকে একইভাবে ডাকতে শুরু করে। সময়টা কঠিন ছিল, কিন্তু আমরা সামলে নিয়েছিলাম।” অমিত স্মৃতিচারণ করেন।
7
10
অঙ্কুর ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে অনুশীলন করত অনিকেত। বাড়ি থেকে দূরত্ব ছিল ১৩ কিলোমিটার। দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর এই যাত্রা সত্ত্বেও অনিকেত অসাধারণ নিষ্ঠা প্রদর্শন করেছে। যাতায়াতের সময়ে হার্দিক পান্ডিয়ার সংগ্রাম নিয়ে তাঁর অবিরাম প্রশ্নগুলোই প্রমাণ করে, ছোট্ট এই ছেলেটির ভিতরে কীভাবে নাড়া দিয়েছিল পাণ্ডিয়ার জীবনযুদ্ধের কাহিনি।
8
10
অনিকেত যখন আট বছরের তখন তাঁর ক্রিকেটপ্রেমী কাকা অমিত ভোপালের রেলওয়েজ ইয়ুথ স্পোর্টস ক্লাবে কোচ নন্দজিৎ সিংহের কাছে নিয়ে যান।
অনিকেতের চমৎকার হাত-চোখের সমন্বয় দেখে এবং পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা বুঝে কোচ তাঁর প্রশিক্ষণের ফি পুরোপুরি মকুব করে দেন। দুই বছর তাঁর অধীনে প্রশিক্ষণ নেন অনিকেত। এরপর তাঁকে আরেক কোচ জ্যোতি প্রকাশ ত্যাগীর কাছে পাঠানো হয়।
“অসাধারণ ছেলে। দলে যোগ দেওয়ার আগে আমাকে ফোন করেছিল। আমি ওকে আশীর্বাদ দিয়েছিলাম। ওর পরিবার বহু বছর আমার একটি ফ্ল্যাটে থেকেছে। আমি ওকে ধীরে ধীরে বড় হতে দেখেছি। ” বলেন নন্দজিৎ সিং।
9
10
“দাদা, আমি এখনও কিছুই অর্জন করিনি। আমি তো এখনও মধ্যপ্রদেশের নিয়মিত খেলোয়াড়ও নই। আইপিএল মরশুমের পরে কি আমরা এই সাক্ষাৎকারটা করতে পারি?” — আইপিএলের আগে মিডিয়া যখন অনিকেতের সঙ্গে কথা বলতে আসে, তখন এভাবেই বলেছিলেন অনিকেত।
কিছুটা অনুরোধ করার পর তরুণ খেলোয়াড় উত্তর দেন, “আপনারা আমার কাকার সঙ্গে কথা বলুন। উনিই আপনাদের ভাল বলতে পারবেন।''
10
10
অনিকেতের দেওয়া উপহারটি ছিল একটি ব্র্যান্ডেড জুতো, যার ওপর হৃদয়স্পর্শী একটি বার্তা লেখা ছিল: “পৃথিবীর সেরা কাকার জন্য।” অনিকেতের এই উপহার পেয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অনিকেতের কাকা।