আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর পর থেকে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি উত্তপ্ত। এই সংঘাতের ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেলপথ হরমুজ প্রণালী সমস্যায় পড়েছে। এই পথ দিয়ে ভারতসহ বহু দেশের তেলের আমদানি ও রপ্তানি সংঘটিত হয়, এবং বর্তমানে প্রায় দেশের মোট তেলের আমদানির প্রায় অর্ধেক এই পথ দিয়ে আসে, যা এক বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয়।
2
9
হরমুজ প্রণালী — ইরান ও ওমানের মধ্যে সংযুক্ত করা একটি সংকীর্ণ জলপথ — বিশ্বের ক্রুড তেলের প্রায় ২০ % এবং তরল গ্যাসের প্রায় ২০ % রপ্তানিতে একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকায় রয়েছে। প্রণালী বন্ধ বা এতে কোনও ধরনের দীর্ঘমেয়াদী ব্যাঘাত সৃষ্টি হলে তেলের সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দাম অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে যেতে পারে।
3
9
ভারতের তেলের চাহিদার প্রায় ৮৮-৯০ % আমদানি করে থাকে এবং আমদানি করা তেলের প্রায় ৫০ % হরমুজ প্রণালী দিয়ে একবারে দেশের কাছে আসে — এটি গত কয়েক মাসে বেড়ে গেছে। গত বছর এই শেয়ার ছিল প্রায় ৪০ %, যা ২০২৬ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ৫০ % এ পৌঁছেছে।
4
9
বিশ্লেষকদের মতে, যদি হরমুজে কোনওভাবেই সরবরাহ ব্যাহত হয়, তবে তেলের গতি বন্ধের আগেই বাজারের মনোভাবেই দাম বাড়তে শুরু করবে। আন্তর্জাতিক ক্রুড তেলের দাম ইতিমধ্যেই উত্তেজনার কারণে উচ্চতর দিকে সরে এসেছে। এই দামবৃদ্ধি, ভারতকে উচ্চ ইমপোর্ট বিল, ভাড়াভাড়া ও বীমা খরচ বেড়ে যাওয়া, এবং মুদ্রাস্ফীতি চাপ বাড়বে।
5
9
তেলের দাম বৃদ্ধি: হরমুজে সরবরাহ ব্যাহত হলে ক্রুড তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে, যা দেশীয় বাজারে পেট্রোল, ডিজেল সহ অন্যান্য পণ্য দাম বাড়ায়।
6
9
মুদ্রাস্ফীতি ও টাকার চাপ: তেলের দাম বাড়লে আমদানি বিল বেশি হওয়ার কারণে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে এবং ভারতীয় টাকার উপর চাপ পড়তে পারে।
7
9
বিকল্প সরবরাহ ও সমাধান: ভারতে সরকার ব্যাকআপ হিসেবে বিভিন্ন বিকল্প সরবরাহ উৎস যেমন রাশিয়া, আফ্রিকা বা ল্যাটিন আমেরিকাতে মনোযোগ বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভের সঞ্চয়গুলো অস্থায়ী সংকটে মোকাবিলায় কাজে লাগানো হতে পারে।
8
9
তেলের দাম শুধু জ্বালানির খরচ নয়, দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য হিসাব ও বাজেটেও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়লে খনিজ তেলের ওপর নির্ভরশীল খাতগুলোতে উৎপাদন ও বাজার ব্যাহত হতে পারে, এবং সরকারকে সমর্থনমূলক অর্থনৈতিক নীতির প্রয়োজনে নতুন উদ্যোগ নিতে হতে পারে।
9
9
এই অবস্থায় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্তরে স্থিতিশীল পরিস্থিতি ফিরে পেতে পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক উত্তেজনা কমানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে জ্বালানি সরবরাহ চেইন স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদী মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি কমানো যায়।