বৃহস্পতিবার সপ্তাহের চতুর্থ দিনে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ে শুরু হল ভারতীয় শেয়ার বাজার। দিনের শুরুতেই সেনসেক্স ২০০ পয়েন্টের বেশি উঠেছে। অন্যদিকে, নিফটি ২৪,০০০-এর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। ব্যাঙ্কিং শেয়ারে কেনাকাটার জেরে বাজারে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
2
11
বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সেনসেক্স ২৪৪.৩৮ পয়েন্ট বা ০.৩২ শতাংশ বেড়ে ৭৬,৮১৪.৭৩ পয়েন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নিফটি ৫৬.৯০ পয়েন্ট বা ০.২৪ শতাংশ বেড়ে ২৩,৯৭১.৩৫ পয়েন্টে পৌঁছয়। ফলে ২৪ হাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্তর ছুঁতে আর খুব বেশি দূরে নেই নিফটি।
3
11
বাজারের এই উত্থানের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে ব্যাঙ্কগুলির বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা সংগ্রহ। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার সুবিধাজনক সোয়াপ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতীয় ব্যাঙ্কগুলি রেকর্ড ১২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে। অন্যান্য ফরেক্স উপকরণ-সহ এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মোট অর্থ সংগ্রহের পরিমাণ প্রায় ১৩৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
4
11
বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন বন্ডের ইয়েল্ড সামান্য কমায় আজ বাজারের মনোভাব আরও ইতিবাচক হতে পারে। বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা সংগ্রহের ফলে ভারতীয় টাকার উপর চাপ কিছুটা কমতে পারে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
5
11
নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে ১২৭ বিলিয়ন ডলারের সংগ্রহ প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি। সব মিলিয়ে প্রায় ১৩৬ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি মুদ্রা সংগ্রহ টাকার দরকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। টাকা শক্তিশালী বা স্থিতিশীল হলে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়তে পারে।
6
11
দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি এবং সংস্থাগুলির আয়ের সম্ভাবনা উন্নত হলে উচ্চ মার্কিন বন্ড ইয়েল্ড সত্ত্বেও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ারে বিনিয়োগ চালিয়ে যেতে পারেন।
7
11
সরাসরি সুবিধা পেতে পারে ব্যাঙ্কিং সেক্টরও। বিশেষজ্ঞের মতে, ব্যাঙ্কগুলির হাতে অতিরিক্ত বিদেশি মুদ্রার জোগান এলে তাদের নেট ইন্টারেস্ট মার্জিন উন্নত হতে পারে। ফলে ব্যাঙ্কিং শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
8
11
তবে বুধবারের বাজারের পতন ছিল কিছুটা ব্যতিক্রমী। বুধবার নিফটি প্রায় ১৪১ পয়েন্ট পড়লেও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা মোট প্রায় ৯,৫০০ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছিলেন।
9
11
এর মধ্যে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৬,৬৮৮ কোটি টাকা এবং দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা প্রায় ২,৮১২ কোটি টাকার শেয়ার কেনেন।
10
11
বিশেষজ্ঞের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এত বড় অঙ্কের কেনাকাটার পরেও বাজার পড়ে যাওয়ায় বোঝা যায়, খুচরো বিনিয়োগকারী, প্রোপ্রাইটারি ট্রেডার এবং বাজারে পতনের পক্ষে থাকা বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপই বুধবারের পতনকে তীব্র করেছিল। বৃহস্পতিবার সেই প্রবণতা কিছুটা উল্টে যেতে পারে বলেই আশা করা হচ্ছে।
11
11
এখন বাজারের পরবর্তী দিক নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে টাকার দর, মার্কিন বন্ড ইয়েল্ড, বিদেশি বিনিয়োগের হিসেব এবং আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি। ফলে ২৪ হাজারের স্তর নিফটি ধরে রাখতে পারে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে বিনিয়োগকারীদের।