জন্মাষ্টমীর ভোগে কেন থাকে মাখন-মিছরি? কৃষ্ণের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মিষ্টি এই গল্প
নিজস্ব সংবাদদাতা
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬ : ০০
শেয়ার করুন
1
9
জন্মাষ্টমী মানেই ভক্তির পাশাপাশি নানা রকম ভোগের আয়োজন। আর সেই ভোগের তালিকায় মাখন-মিশ্রির উপস্থিতি যেন অবধারিত। শ্রীকৃষ্ণের নাম উঠলেই মাখন, দুধ, দই, মাখন-মিছরির কথা মনে পড়ে।
2
9
কিন্তু কেন কৃষ্ণের ভোগে এত গুরুত্ব পায় মাখন? পুরাণ ও বৈষ্ণব সাহিত্যে কৃষ্ণের বাল্যলীলার অন্যতম পরিচিত অংশ হল নবনীতচুরি, অর্থাৎ মাখন চুরি।
3
9
গোকুল ও বৃন্দাবনে ছোট্ট কৃষ্ণ নাকি বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে গোপীদের বাড়িতে ঢুকে মাখন চুরি করতেন। কখনও হাঁড়ি ভেঙে মাখন বের করতেন, আবার কখনও বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে খেতেন।
4
9
এই কারণেই কৃষ্ণের আরেকটি পরিচিত নাম নবনীতচোর। ‘নবনীত’ বলতে বোঝায় সদ্য তোলা মাখন।তবে এই ‘চুরি’র মধ্যে শুধুই দুষ্টুমি ছিল না। ভক্তিমূলক ব্যাখ্যায় এর মধ্যে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক অর্থ।
5
9
মাখন তৈরি হয় দুধকে বারবার প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে। সেই মাখনকে মানুষের হৃদয়ের নির্মলতার প্রতীক হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়। অর্থাৎ, কৃষ্ণ যেন ভক্তের নির্মল হৃদয়ই ‘চুরি’ করে নেন।
6
9
আর মাখনের সঙ্গে মিছরি? মিছরি হল স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ ও মিষ্টি চিনি। নির্মল হৃদয়ে ভক্তির মধুরতা অধিক আস্বাদিত হয়। কৃষ্ণের ভোগে মাখন-মিছরির প্রচলন মূলত তাঁর গোপাল রূপ এবং দুধ-দই-মাখনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বৃন্দাবনের লোকাচারেরই প্রতিফলন।
7
9
জন্মাষ্টমীতে তাই অনেকেই কৃষ্ণকে মাখন-মিছরি নিবেদন করেন। কোথাও সঙ্গে থাকে দুধ, দই, ক্ষীর, পায়েস কিংবা নানা ধরনের মিষ্টি।
8
9
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, ‘মাখন-মিছরি কৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর ভোগ’, এমন কথা শাস্ত্রে এককভাবে নির্ধারিত নয়। অঞ্চল, সম্প্রদায় এবং পারিবারিক রীতি অনুযায়ী ভোগের ধরন বদলে যায়।
9
9
তবু কৃষ্ণের বাল্যলীলা মনে করলেই যে মাখনচোরের ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে, সেটাই মাখন-মিছরিকে জন্মাষ্টমীর অন্যতম জনপ্রিয় নিবেদনে পরিণত করেছে। অর্থাৎ, ভোগের থালায় একটুখানি মাখন-মিছরি শুধু খাবার নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে গোকুলের সেই দুরন্ত বালক কৃষ্ণের স্মৃতি।