দেশের বিশাল রেল নেটওয়ার্ককে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের জন্য বড় সুযোগ খুলে দিল ভারতীয় রেলওয়ে। নতুন ঘোষিত ‘রেল টেক পলিসি’-র আওতায় উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উন্নয়নে প্রকল্প খরচের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থায়ন করবে রেল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, দ্রুত ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা বাড়াতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ‘ই-রেলওয়ে ক্লেমস ট্রাইব্যুনাল (e-RCT)’ চালুর ঘোষণাও করা হয়েছে।
2
9
এই পদক্ষেপগুলি সরকারের ‘৫২ সপ্তাহে ৫২ সংস্কার’ কর্মসূচির তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপের অংশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চলতি বছর রেল ব্যবস্থার কাঠামোগত রূপান্তরের লক্ষ্যে যাকে ‘রিফর্মস এক্সপ্রেস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তারই ধারাবাহিকতায় এই ঘোষণা।
3
9
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, রেল টেক পলিসির উদ্দেশ্য হলো রেলের কার্যকরী চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি শক্তিশালী প্রযুক্তি-ভিত্তিক স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা।
4
9
নতুন নীতির অধীনে স্টার্টআপ, উদ্ভাবক, শিল্প সংস্থা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রেল নিরাপত্তা, সিকিউরিটি, সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ, গ্রিভ্যান্স রিড্রেসালসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমাধান প্রস্তাব করতে পারবে। কোনও প্রকল্প সফল প্রমাণিত হলে রেল দীর্ঘমেয়াদি অর্ডার দেবে, যাতে প্রযুক্তির দ্রুত স্কেল-আপ সম্ভব হয়। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর অ্যাপ্লিকেশনসহ নতুন প্রযুক্তির দ্রুত গ্রহণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
5
9
নীতিতে উদ্ভাবক নির্বাচন প্রক্রিয়া সহজ করার কথা বলা হয়েছে এবং একটি বিশেষ ‘রেল টেক পোর্টাল’ তৈরি করা হবে, যা উদ্ভাবনী প্রচেষ্টার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ শুরু করতে পারবেন যেমন উদ্ভাবকরা, তেমনই রেলের বিভিন্ন দপ্তরের ব্যবহারকারীরাও—ফলে সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধান উন্নয়নে দ্বিমুখী অংশীদারিত্ব গড়ে উঠবে।
6
9
অন্যদিকে, রেলওয়ে ক্লেমস ট্রাইব্যুনালকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ‘ই-আরসিটি’ কর্মসূচির মাধ্যমে। আগামী ১২ মাসের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের সব কার্যক্রম অনলাইনে নিয়ে আসার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশজুড়ে থাকা ২৩টি বেঞ্চকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হবে, যাতে যেকোনও স্থান থেকে ২৪ ঘণ্টা অনলাইনে মামলা দায়ের করা যায়।
7
9
ই-আরসিটি প্ল্যাটফর্মে থাকবে তিনটি প্রধান মডিউল—প্রথমত, ২৪/৭ ই-ফাইলিং ব্যবস্থা; দ্বিতীয়ত, কেস ইনফরমেশন সিস্টেম (CIS), যা মামলা দায়ের থেকে রায় পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ—শুনানি, প্রমাণ দাখিল, মুলতবি—ডিজিটালি ট্র্যাক করবে; এবং তৃতীয়ত, ডকুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DMS), যেখানে সব নথি, আদেশ ও রায় কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত থাকবে।
8
9
রেলমন্ত্রীর দাবি, কয়েক বছর আগে যেখানে প্রায় ৩৪ হাজার মামলা ঝুলে ছিল, বর্তমানে তা কমে প্রায় ৯,৫০০-এ নেমে এসেছে—অর্থাৎ ৬০-৭০ শতাংশ পর্যন্ত পেন্ডেন্সি হ্রাস পেয়েছে। ই-আরসিটি চালু হলে নিষ্পত্তির গতি আরও বাড়বে এবং দূরবর্তী এলাকার দাবিদাররাও সহজে ট্রাইব্যুনালের পরিষেবা পাবেন। এই মডেল সফল হলে অন্যান্য ট্রাইব্যুনালেও তা প্রয়োগ করা যেতে পারে।
9
9
সব মিলিয়ে, পরিচালনাগত সংস্কার ও প্রযুক্তিনির্ভর রূপান্তরের সমন্বয়ে যাত্রী পরিষেবা উন্নয়ন, দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রেলের সামগ্রিক আধুনিকীকরণই এখন সরকারের অগ্রাধিকার।