তামাশা' ছবিতে বেদ বর্ধন সাহনি প্রতিদিন সকালে আয়নার সামনে দাঁড়ান, টাই ঠিক করেন, অফিসের জন্য বের হন, বাড়ি ফিরে আসেন, রাতের খাবার খান এবং ঘুমিয়ে পড়েন।
2
12
এই রুটিনকে সাধারণ মনে হতে পারে, কিন্তু তাঁর মুখ দেখেই বোঝা যায় এক অন্তহীন চক্রে আটকে থাকার হতাশা তাকে গ্রাস করছে।
3
12
২০১৫ সালের ছবিটি বিশেষ সাফল্য না পেলেও এই সময় অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া মিলেনিয়ালরা এখন বেদের মধ্যে নিজেদের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছেন যেন৷ ডেডলাইনের চাপ, সেই একই পুরোনো রুটিন, ট্র্যাফিক জ্যাম, কর্মক্ষেত্রের বিষাক্ত পরিবেশ জঘন্য বস সব মিলে জীবন জেরবার৷
4
12
ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ সাইকিয়াট্রিতে প্রকাশিত ২০২৪ সালের একটি সমীক্ষা অনুসারে, ১০% থেকে ৫২.৯% ভারতীয় কর্মী বিষণ্ণতায় ভুগেছেন এবং ৭% থেকে ৫৭% উদ্বেগে ভুগেছেন।
5
12
এর কারণ ডিজিটাল ক্লান্তি, দীর্ঘ কর্মসময় এবং সীমিত প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা। প্রায় ৬০% পেশাজীবীর মধ্যে কাজ করার ইচ্ছা নষ্ট হওয়া এবং বিপুল ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট৷
6
12
ভারতের কর্মসংস্কৃতিকে বিশ্বের সবচেয়ে বিষাক্ত কর্মসংস্কৃতিগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে গণ্য করা হয়। যদিও পরিবর্তন ধীরে ধীরে হয়, কিন্তু যে হারে চলছে, তা বিশ্বব্যাপী মহামারীতে পরিণত হচ্ছে। এটি উদ্বেগের।
7
12
পেশাগত ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষ পরিস্থিতি সামলাতে পারছেন না, ভীষণ ক্লান্ত, রাগ বিরক্তি গ্রাস করছে, আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, ঘুমের সমস্যা, ঘন ঘন অসুস্থতা, অতিরিক্ত মদ্যপান বা মাদক সেবন এই সমস্ত ক্ষয়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন।
8
12
'বার্নআউট' শব্দটি কর্পোরেট জগতে বহুল প্রচলিত। এমন আরেকটি শব্দ হলো ‘বেড রটিং’। এই ধারণার মূলে রয়েছে কিছুই না করা – সারাদিন বিছানায় শুয়ে থাকা বা দেয়ালের দিকে তাকিয়ে থাকা। তবে, বিশেষজ্ঞরা এই আচরণকে উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতার লক্ষণ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন৷
9
12
বহু মিলেনিয়াল চাকরি ছাড়ছেন ধীর গতির জীবন বাঁচবেন বলে৷ কাচের বাতানুকূল ঘরের বদলে মানুষ ফিরে যাচ্ছেন গ্রামের বাড়ি৷ পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দিচ্ছেন৷ নিজে ব্যবসা শুরু করছেন অথবা ঘরে বসে কাজ করছেন।
10
12
কেউ মধ্য তিরিশে চাকরি ছেড়ে বুটিক খুলছেন কারণ সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পরেও বছরশেষে ন্যূনতম উন্নতি হচ্ছে না৷
11
12
তবে শুধু টাকা নয়, কেউ কেউ চাকরি ছাড়ছেন অফিস পলিটিক্সের কারণে৷ অফিসের পরিবেশ মানসিক শান্তি নষ্ট করে দিয়েছে কিংবা পাহাড়প্রমাণ কাজের চাপ।
12
12
কাজের চাপ সামলানোর জন্য কতটা কাজ করবে এবং কখন 'না' বলতে হবে সেটাও জানা জরুরি। তবে চাকরি ছেড়ে দেওয়াই একমাত্র সমাধান নয়৷ মন উন্মুক্ত রাখা এবং পরিবারের সহায়তা থাকলে এই উদ্বেগ অনেকটাই কম হয়৷