বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও সংঘাতের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী এবং অপ্রতিরোধ্য করে তুলছে ভারত।
2
8
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জল, স্থল ও আকাশ—তিন পথেই পারমাণবিক হামলার জবাব দেওয়ার ক্ষমতা বা ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’ (Nuclear Triad)-কে ভারত এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যা যে কোনও প্রতিপক্ষের জন্যই চরম সতর্কবার্তা। আধুনিক ওয়ারহেড এবং হাজার হাজার কিলোমিটার পাল্লার দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয়ে তৈরি এই শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় দেশের নিরাপত্তাকে এক অভেদ্য সুরক্ষাবলয়ে পরিণত করেছে।
3
8
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের পারমাণবিক দর্শনের মূল ভিত্তি হল ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ (No First Use) বা আগে আক্রমণ না করার নীতি। তবে কোনও শত্রু দেশ যদি প্রথম আঘাত হানার দুঃসাহস দেখায়, তাহলে দ্বিতীয় আঘাতে তাদের সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ করে দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা ধরে নয়াদিল্লি। সেই লক্ষ্যেই দূরপাল্লার ‘অগ্নি’ সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ভারতের তূণের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।
4
8
বিশেষ করে পাঁচ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম ‘অগ্নি-৫’ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল অন্তর্ভুক্তি ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশলে বিরাট পরিবর্তন এনেছে। এতে প্রতিপক্ষের গভীরের কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিগুলো সরাসরি ভারতের আওতার মধ্যে এসে পড়েছে।
5
8
শুধু স্থলেই নয়, পারমাণবিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সাগরের গভীরকেও সমান দক্ষতার সাথে কাজে লাগাচ্ছে ভারত। পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (SLBM) শত্রুর নজরদারি এড়িয়ে যে কোনও অবস্থান থেকে পাল্টা আঘাত হানতে প্রস্তুত থাকে।
6
8
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্থলভাগের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি যদি শত্রুপক্ষের প্রাথমিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্তও হয়, তাহলেও সমুদ্রের অতলে লুকিয়ে থাকা এই সাবমেরিনগুলো ভারতের পারমাণবিক প্রতিঘাত সুনিশ্চিত করবে। আকাশপথে রাফায়েল কিংবা সুখোইয়ের মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোকেও প্রয়োজনীয় মুহূর্তে পারমাণবিক অস্ত্র বহনের উপযোগী করে সাজানো হয়েছে।
7
8
দক্ষিণ এশিয়ার জটিল ভূ-রাজনীতি এবং সীমান্তে প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্রমাগত শক্তির মহড়ার আবহে ভারতের এই পারমাণবিক আধুনিকীকরণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
8
8
সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রস্তুতি কোনও যুদ্ধের উন্মাদনা ছড়ানোর জন্য নয়; বরং সম্ভাব্য আগ্রাসন রোখার জন্য এক শক্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা (Deterrence)। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের নিখুঁত নিশানা এবং পারমাণবিক শক্তির এই সুসমন্বিত ভারসাম্য আধুনিক বিশ্বের দরবারে আত্মরক্ষার প্রশ্নে ভারতের সার্বভৌম অবস্থানকেই আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করছে।