আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকেরই ধারণা, করযোগ্য আয় না থাকলে বা বার্ষিক আয় মৌলিক করমুক্ত সীমার নিচে থাকলে রিটার্ন দাখিল করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়।
2
12
আয়কর আইনে এমন একাধিক পরিস্থিতির উল্লেখ রয়েছে, যেখানে আয় কম হলেও আইটিআর জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এই নিয়ম না মানলে আয়কর বিভাগের নোটিস, জরিমানা এবং অন্যান্য আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে।
3
12
উচ্চ মূল্যের আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও আইটিআর ফাইল করা বাধ্যতামূলক। কোনও ব্যক্তি যদি একটি বা একাধিক সেভিংস অ্যাকাউন্টে একটি আর্থিক বছরে মোট ৫০ লাখ বা তার বেশি জমা করেন, তাহলে তাঁকে আয়কর রিটার্ন জমা দিতেই হবে।
4
12
একইভাবে, এক বা একাধিক কারেন্ট অ্যাকাউন্টে বছরে মোট ১ কোটি বা তার বেশি জমা হলে আইটিআর ফাইল করা বাধ্যতামূলক, আয় করযোগ্য হোক বা না হোক।
5
12
বিদেশ ভ্রমণ বা বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। কোনও ব্যক্তি যদি একটি আর্থিক বছরে নিজের বা অন্য কারও বিদেশ সফরের জন্য ২ লাখের বেশি খরচ করেন, তাহলে তাঁকে আইটিআর জমা দিতে হবে। এছাড়া বছরে ১ লাখের বেশি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করলেও রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক।
6
12
বিদেশে সম্পদ থাকা বা বিদেশি অ্যাকাউন্ট পরিচালনার অধিকার থাকলেও আইটিআর ফাইল করতে হবে। বিদেশে কোনও সম্পদের মালিক বা সুবিধাভোগী হলে, অথবা বিদেশে থাকা কোনও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সই করার ক্ষমতা থাকলে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
7
12
অনেক বেতনভোগী কর্মীর ধারণা, ধারা ৮৭-এ কর রিবেটের কারণে যদি তাঁদের কর শূন্য হয়ে যায়, তাহলে আইটিআর ফাইল করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু এটি ভুল ধারণা।
8
12
৮৭ এ শুধুমাত্র করের পরিমাণ কমায়, আইটিআর দাখিলের বাধ্যবাধকতা তুলে দেয় না। যদি আইনে উল্লেখিত অন্য কোনও শর্ত প্রযোজ্য হয়, তাহলে রিটার্ন জমা দিতেই হবে।
9
12
এছাড়া, কোনও আর্থিক বছরে টিডিএস বা টিসিএস মিলিয়ে ২৫,০০০ বা তার বেশি কাটা হলে আইটিআর ফাইল করা বাধ্যতামূলক। প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই সীমা ৫০,০০০।
10
12
রিটার্ন জমা দিলে অতিরিক্ত কাটা টিডিএস ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক বা মূলধনী ক্ষতি ভবিষ্যতের জন্য বহন করার সুবিধাও বজায় থাকে এবং ব্যাংক ঋণ বা ভিসার আবেদনেও আইটিআর গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে কাজ করে।
11
12
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আিটিআর জমা না দিলে আয়কর আইনের ধারা ২৩৪এফ অনুযায়ী জরিমানা দিতে হতে পারে। মোট আয় ৫ লাখ বা তার কম হলে নির্ধারিত সময়ের পরে কিন্তু ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে ১,০০০ জরিমানা দিতে হয়। আয় ৫ লাখের বেশি হলে জরিমানার পরিমাণ ৫,০০০ পর্যন্ত হতে পারে।
12
12
তবে শুধুমাত্র আয় করমুক্ত সীমার নিচে থাকলেই সব ক্ষেত্রে জরিমানা এড়ানো যাবে, এমন নয়। বিদেশি সম্পদ, উচ্চমূল্যের লেনদেন বা অন্যান্য বাধ্যতামূলক শর্ত প্রযোজ্য হলে রিটার্ন না জমা দিলে সুদ, জরিমানা, রিফান্ডে বিলম্ব এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন আর্থিক পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হতে হতে পারে। তাই আয় কম হলেও নিজের ক্ষেত্রে আইটিআর দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে কি না, তা আগে থেকেই যাচাই করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।