আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল সঠিক ফর্ম নির্বাচন করা। মূল্যায়ন বর্ষ ২০২৬-২৭ জন্য আয়কর দফতর একাধিক ফর্মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে।
2
12
নতুন নিয়মে কিছু ফর্মের যোগ্যতার শর্ত বদলানো হয়েছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে নতুন নিয়মগুলি জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
3
12
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হয়েছে আইটিআর ১ ফর্মে। আগে তালিকাভুক্ত শেয়ার বা ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ড বিক্রি করে দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভ হলে অধিকাংশ করদাতাকেই আইটিআর ২ জমা দিতে হতো।
4
12
কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনও আবাসিক ব্যক্তির সেকশন ১১২ এ আওতায় দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভ আর্থিক বছরে ১.২৫ লক্ষ টাকার বেশি না হয় এবং বহনযোগ্য কোনও মূলধনী ক্ষতি না থাকে, তাহলে তিনি আইটিআর ১ ব্যবহার করেই রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
5
12
এর ফলে বেতনভোগী কর্মচারীরা, যাঁদের আয়ের উৎস মূলত বেতন, ব্যাঙ্কের সুদ এবং সীমিত পরিমাণ LTCG, তাঁদের আর আলাদা করে আইটিআর ২ জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। তবে যাঁদের মূলধনী লাভ ১.২৫ লক্ষ টাকার বেশি, অথবা ক্যাপিটাল লস রয়েছে কিংবা জটিল মূলধনী লেনদেন হয়েছে, তাঁদের আগের মতোই আইটিআর ২ বা প্রযোজ্য অন্য ফর্ম ব্যবহার করতে হবে।
6
12
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল, একাধিক বাড়ি থেকে আয় থাকলেও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে করদাতারা আইটিআর ১ বা আইটিআর ৪ ব্যবহার করতে পারবেন। আগে এমন ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে জটিল আইটিআর ফর্ম বেছে নিতে হতো।
7
12
এবারের ফর্মে মূলধনী লাভের হিসাবও আরও বিস্তারিতভাবে জানাতে হবে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই থেকে মূলধনী লাভ করের নিয়মে পরিবর্তন হওয়ায় আইটিআর ২ ওই তারিখের আগে এবং পরে হওয়া মূলধনী লাভ আলাদাভাবে দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কারণ দুই সময়ের জন্য আলাদা করহার প্রযোজ্য হতে পারে।
8
12
এছাড়া শেয়ার বাইব্যাক ফলে হওয়া ক্ষতির জন্যও আইটিআর ২ আলাদা তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ২০২৪ সালের অর্থ আইনের পরিবর্তনের ফলে বাইব্যাকের করের দায়ভার কোম্পানির পরিবর্তে শেয়ারহোল্ডারের ওপর বর্তায়। তাই এই ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে তথ্য জানাতে হবে।
9
12
কর ছাড়ের দাবিতেও এবার বাড়তি তথ্য দিতে হবে। সেকশন ৮০ জি আওতায় দাতব্য প্রতিষ্ঠানে অনুদানের ক্ষেত্রে পেমেন্টের রেফারেন্স নম্বর, অর্থপ্রদানের পদ্ধতি এবং ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ করতে হবে।
10
12
নতুন ফর্মে দ্বিতীয় ঠিকানা, অতিরিক্ত মোবাইল নম্বর এবং ই-মেল আইডি দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এছাড়া সংশোধিত বা আপডেটেড রিটার্ন জমা দিলে অতিরিক্ত কর, সুদ এবং বিলম্ব ফি-র তথ্যও উল্লেখ করতে হবে।
11
12
অন্যদিকে, আইটিআর ৩ জমা দেওয়া ব্যবসায়ী ও শেয়ারবাজারের ট্রেডারদের জন্যও নতুন নিয়ম এসেছে। বিশেষ করে ফিউচার্স অ্যান্ড অপশনস, ইন্ট্রাডে ট্রেডিং এবং অন্যান্য ট্রেডিং লেনদেনের টার্নওভার ও আয় এবার আলাদাভাবে দেখাতে হবে। ব্রোকারের স্টেটমেন্ট এবং হিসাবের বইয়ের সঙ্গে রিটার্নে দেওয়া তথ্যের মিল থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
12
12
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন আইটিআর ফর্মে তথ্য গোপন বা ভুল দেওয়ার সুযোগ অনেকটাই কমেছে। তাই রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে নিজের আয়, মূলধনী লাভ, কর ছাড়, বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক লেনদেনের সমস্ত তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে সঠিক ফর্ম নির্বাচন করাই হবে সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।