ঘুম থেকে উঠেই কর্মব্যস্ততা, ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরে ফের পরদিনের তোড়জোড়। কারও কারওর জীবনে ছুটির দিনেও কাজের চাপ। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হতাশা, অবসাদ, প্রিয়জনের সঙ্গে দূরত্ব। আপনিও কি জীবনের জাঁতাকলে মুক্তির পথ খুঁজছেন? তাহলে সুযোগ পেলেই প্রিয়জনকে আলিঙ্গন করুন। নিমেষে জীবনের হাজার সমস্যার সমাধান দিতে পারে 'জাদু কি ছাপ্পি'।
2
9
চারদিকে বসন্তের আমেজ। কেমন যেন প্রেম প্রেম ভাব। প্রেম দিবসের আগে আজ ১২ ফেব্রুয়ারি, হাগ ডে বা আলিঙ্গন দিবস। বন্ধু হোক বা প্রিয়জন, পরস্পরের প্রতি স্নেহ ও ভালবাসা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হল আলিঙ্গন।
3
9
বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন আমরা কাউকে আন্তরিকভাবে জড়িয়ে ধরি, তখন শরীরে 'অক্সিটোসিন' নামে একটি হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোনকে মাদের মনে নিরাপত্তা, বিশ্বাস এবং শান্ত অনুভূতি তৈরি করে।
4
9
একই সঙ্গে শরীরের ক্ষতিকর স্ট্রেস হরমোন 'কর্টিসল'-এর মাত্রা কমিয়ে দেয়। কর্টিসল বেশি হলে উদ্বেগ, বিরক্তি, উচ্চ রক্তচাপ ও ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
5
9
শুধু মন নয়, শরীরের জন্যও আলিঙ্গন উপকারী। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, আলিঙ্গন করার সময় হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক হয়, রক্তচাপ কমে এবং শরীর ধীরে ধীরে আরাম পায়।
6
9
দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ কম থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে। এমনকী নিয়মিত আলিঙ্গন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
7
9
তবে অনেকের মনে প্রশ্ন আসে, কতক্ষণ আলিঙ্গন করলে এই উপকার মিলবে? গবেষকরা জানাচ্ছেন, অন্তত ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড ধরে কাউকে জড়িয়ে ধরলে শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়। আর যদি ২০ সেকেন্ড পর্যন্ত আলিঙ্গন করা যায়, তাহলে অক্সিটোসিন আরও বেশি নিঃসৃত হয় এবং স্ট্রেস কমার প্রভাব স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। এমনকী ৮ সেকেন্ডের একটি আন্তরিক আলিঙ্গনও মন অনেকটা হালকা করে দিতে পারে।
8
9
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, আলিঙ্গন যেন জোর করে না হয়। দু’জনেরই স্বাচ্ছন্দ্য থাকা জরুরি। কেউ যদি শারীরিক স্পর্শে অস্বস্তি বোধ করেন, সেক্ষেত্রে হাত ধরা বা কাঁধে হাত রাখাও একইরকম মানসিক সমর্থন দিতে পারে।
9
9
ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেক সময় অনুভূতি প্রকাশ করতে ভুলে যাই। অথচ একটি সাধারণ আলিঙ্গনই প্রিয়জনকে বোঝাতে পারে, আপনি একা নন। তাই প্রতিদিনের জীবনে একটু সময় বের করে কাছের মানুষকে জড়িয়ে ধরুন। মানসিক চাপ কমাতে এর চেয়ে সহজ, নিরাপদ আর প্রাকৃতিক উপায় আর হয় না।