নতুন বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার পর বাড়ি বদলানো মানেই শুধু আসবাবপত্র ও জিনিসপত্র এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া নয়। নতুন ঠিকানায় যাওয়ার পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও আর্থিক নথিতেও ঠিকানা আপডেট করা জরুরি।
2
13
আধার কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ভোটার আইডি, পাসপোর্ট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সের মত নথিতে পুরনো ঠিকানা থাকলে পরবর্তীতে বিভিন্ন পরিষেবা নেওয়ার সময় সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
3
13
এর মধ্যে আধার কার্ডে নতুন ঠিকানা আপডেট করা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কারণ পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে আধার বহু ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। তাই নতুন বাড়িতে ওঠার পর প্রথমেই আধারে ঠিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি দেখে নেওয়া যেতে পারে।
4
13
আধার কার্ডে ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য সবসময় আধার কেন্দ্রে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। UIDAI-এর myAadhaar পোর্টালের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অনলাইনেই ঠিকানা আপডেটের আবেদন করা যায়।
5
13
তবে অনলাইনে আপডেটের জন্য আধারের সঙ্গে মোবাইল নম্বর লিঙ্ক থাকা এবং UIDAI-এর নির্ধারিত বৈধ ঠিকানার প্রমাণপত্র থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
6
13
প্রথমে UIDAI-এর myAadhaar পোর্টালে লগইন করতে হবে। এরপর আধার নম্বর এবং OTP ব্যবহার করে পরিচয় যাচাই করতে হবে। লগইন করার পর Address Update সংক্রান্ত অপশন বেছে নিয়ে নতুন ঠিকানাটি নির্ভুলভাবে লিখতে হবে।
7
13
এরপর UIDAI-এর গ্রহণযোগ্য তালিকায় থাকা Address Proof-এর নথি আপলোড করতে হবে। সাবমিট করার আগে নতুন ঠিকানা এবং আপলোড করা নথির তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। কোনও ভুল থাকলে ভবিষ্যতে সংশোধনের জন্য ফের আবেদন করতে হতে পারে।
8
13
আবেদন জমা দেওয়ার পর একটি Update Request Number বা URN পাওয়া যেতে পারে। এই নম্বর ব্যবহার করে আধার আপডেটের আবেদনের অগ্রগতি বা স্ট্যাটাস দেখা যায়। UIDAI-এর যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর নতুন ঠিকানা আধারে আপডেট করা হয়।
9
13
আধারে ঠিকানা পরিবর্তনের পাশাপাশি ব্যাঙ্কের রেকর্ডেও নতুন ঠিকানা আপডেট করা জরুরি। সাধারণত ব্যাঙ্কের KYC রেকর্ডে ঠিকানা পরিবর্তন করা হলে অ্যাকাউন্টের তথ্যেও নতুন ঠিকানা যুক্ত হয়।
10
13
কোনও কোনও ব্যাঙ্কে অনলাইনে KYC বা Address Update-এর সুবিধা থাকে। আবার অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহককে সংশ্লিষ্ট শাখায় গিয়ে KYC বা Customer Request Form পূরণ করতে হতে পারে। ব্যাঙ্কের নিয়ম অনুযায়ী আধার, ভোটার আইডি, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা অন্য কোনও বৈধ Address Proof জমা দিতে হতে পারে।
11
13
শাখায় গিয়ে আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ফর্ম ও নথি জমা দেওয়ার পর ব্যাঙ্কের কর্মীরা রেকর্ডে নতুন ঠিকানা আপডেট করবেন। KYC তথ্য আপডেট হয়ে গেলে প্রয়োজনে পাসবুকও নতুন করে আপডেট বা রি-প্রিন্ট করিয়ে নেওয়া যায়।
12
13
বাড়ি বদলের পর শুধু আধার এবং ব্যাঙ্কের তথ্য পরিবর্তন করলেই কাজ শেষ নয়। ভোটার আইডি, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বিমা সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডেও নতুন ঠিকানা আপডেট করা উচিত। এতে ভবিষ্যতে পরিচয় যাচাই, সরকারি পরিষেবা বা আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে পুরনো ঠিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি এড়ানো সম্ভব হবে।
13
13
তবে প্রতিটি নথির ঠিকানা পরিবর্তনের নিয়ম আলাদা। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত পদ্ধতি ও বৈধ নথির তালিকা দেখে আবেদন করা উচিত।