শিশুর জন্মের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলির মধ্যে অন্যতম হল জন্মের শংসাপত্র। স্কুলে ভর্তি থেকে শুরু করে আধার কার্ড তৈরি, পাসপোর্টের আবেদন কিংবা বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই নথির প্রয়োজন হতে পারে।
2
13
ফলে কোনও কারণে শিশুর জন্মের শংসাপত্র হারিয়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তায় পড়েন অভিভাবকরা। তবে মূল শংসাপত্র হারিয়ে গেলেও নতুন করে তার কপি পাওয়া সম্ভব। তাই অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
3
13
অনেক সময় দীর্ঘদিন নথিটি ব্যবহার না করার কারণে কোথায় রাখা হয়েছে তা মনে থাকে না। আবার বাড়ি বদল, নথিপত্র সরানোর সময় বা অন্য কোনও কারণে জন্মের শংসাপত্র হারিয়ে যেতে পারে।
4
13
এই পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ডুপ্লিকেট বা রিপ্লেসমেন্ট জন্মের শংসাপত্রের জন্য আবেদন করা যায়। অনলাইনে কীভাবে পাওয়া যাবে জন্মের শংসাপত্র?
5
13
জন্মের শংসাপত্রের ডুপ্লিকেট কপি পাওয়ার জন্য অনলাইনে আবেদন করা যায়। এর জন্য CRS পোর্টালের সাহায্য নিতে হবে। শিশুর জন্মের সময় তৈরি করা রেজিস্ট্রেশন নম্বর বা পুরনো জন্মের রেকর্ডের তথ্য যদি হাতে থাকে, তাহলে প্রক্রিয়াটি আরও সহজ হয়।
6
13
রেজিস্ট্রেশন নম্বর বা প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে CRS পোর্টালে রেকর্ড খুঁজে পাওয়া গেলে সেখান থেকেই জন্মের শংসাপত্রের কপি ডাউনলোড করা যেতে পারে। তবে অনলাইনে পরিষেবা পাওয়ার নিয়ম রাজ্য বা স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থার উপর নির্ভর করতে পারে।
7
13
অনলাইনে আবেদন করতে সমস্যা হলে অফলাইনেও ডুপ্লিকেট জন্মের শংসাপত্রের জন্য আবেদন করা যায়। সেক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে। নিকটবর্তী জেলা হাসপাতাল, পুরসভা, পুরনিগম, গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস গিয়ে আবেদন করা যায়।
8
13
হারিয়ে যাওয়া জন্মের শংসাপত্রের পরিবর্তে নতুন কপি পেতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রয়োজন হতে পারে। শিশুর জন্মের রেকর্ড বা হাসপাতাল থেকে দেওয়া ডিসচার্জ স্লিপ থাকা জরুরি। সেখানে শিশুর জন্মের তারিখ-সহ প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ থাকে।
9
13
এর পাশাপাশি শিশুর বাবা-মায়ের পরিচয়পত্র জমা দিতে হতে পারে। হারিয়ে যাওয়া জন্মের শংসাপত্রের কোনও ফটোকপি থাকলে সেটিও কাজে লাগতে পারে। বিশেষ করে পুরনো শংসাপত্রের রেজিস্ট্রেশন নম্বর জানা থাকলে রেকর্ড খুঁজে পাওয়া অনেক সহজ হয়।
10
13
শংসাপত্র হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে পুলিশে করা রিপোর্টও প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে একটি Self Declaration বা হলফনামা জমা দিতে হয়, যেখানে মূল শংসাপত্র হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ থাকবে।
11
13
ডুপ্লিকেট বা রিপ্লেসমেন্ট জন্মের শংসাপত্র পেতে নির্ধারিত ফি দিতে হতে পারে। তবে এই ফি সব জায়গায় এক নয়। সংশ্লিষ্ট রাজ্য, পুরসভা, পুরনিগম বা স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী ফি-র পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।
12
13
তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট অফিস বা সরকারি পোর্টালে প্রয়োজনীয় নথি, ফি এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য যাচাই করে নেওয়াই ভাল।
13
13
জন্মের শংসাপত্র হারিয়ে গেলেও নতুন কপি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে—তাই দুশ্চিন্তা না করে প্রয়োজনীয় নথি হাতে রেখে নির্দিষ্ট নিয়মে আবেদন করলেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।