হার্ট অ্যাটাক থেকে বাঁচতে মাত্র ৬০ সেকেন্ড! রোজ নিয়ম করে এই ৫ নিয়ম মেনে চললেই কমবে হৃদরোগের ঝুঁকি
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৭ জুলাই ২০২৬ ১৩ : ০১
শেয়ার করুন
1
10
ভারতে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হন। বর্তমানে শুধু বয়স্করাই নন, ৩০-৪০ বছর বয়সীদের মধ্যেও হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা বেড়ে চলেছে।
2
10
অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাবার, ধূমপান, মানসিক চাপ এবং শরীরচর্চার অভাব এর অন্যতম কারণ। তবে জানলে অবাক হবেন, প্রতিদিন মাত্র ৬০ সেকেন্ড সময় নিয়ে নিজের জীবনযাত্রা সম্পর্কে সচেতন হলেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব, এমনটাই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
3
10
প্রতিদিন এক মিনিট সময় নিয়ে যদি এই পাঁচটি বিষয় মাথায় রাখা যায়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে হৃদযন্ত্র অনেক বেশি সুস্থ থাকবে।
4
10
হার্টকে সুস্থ রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো ধূমপান সম্পূর্ণ বন্ধ করা। সিগারেট বা তামাকজাত দ্রব্য রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, রক্তচাপ বাড়ায় এবং শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ কমিয়ে দেয়। ফলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। ধূমপান ছাড়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়।
5
10
শরীরচর্চা মানেই জিমে গিয়ে কঠিন ব্যায়াম নয়। দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা বা হালকা ব্যায়ামও হার্টের জন্য দারুণ উপকারী। নিয়মিত শরীরচর্চা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং ভাল কোলেস্টেরল (এইচডিএল) বাড়ায়। এতে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।
6
10
হার্ট ভাল রাখতে খাবারের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। প্রতিদিন বেশি করে শাকসবজি, ফল, ডাল, গোটা শস্য, বাদাম এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। অন্যদিকে, অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার, ভাজাভুজি, ফাস্ট ফুড, কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চিনি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।
7
10
অনেকেই কাজের চাপে ঠিকমতো ঘুমান না। কিন্তু দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ভাল ঘুম প্রয়োজন। পাশাপাশি মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম, ধ্যান, গান শোনা, বই পড়া বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
8
10
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরল অনেক সময় কোনও লক্ষণ ছাড়াই শরীরে বাসা বাঁধে। তাই বছরে অন্তত একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত। বিশেষ করে রক্তচাপ, রক্তে শর্করা এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করলে সমস্যা আগেই ধরা পড়ে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে
9
10
হার্ট সুস্থ রাখতে আরও কিছু অভ্যাস জরুরি। যেমন ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন, প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল পান করুন, অ্যালকোহল পান করলে সীমিত রাখুন, দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকবেন না, পরিবারের কারও হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে আরও বেশি সতর্ক থাকুন।
10
10
হার্ট অ্যাটাক হঠাৎ করে হলেও, এর ঝুঁকি তৈরি হয় দীর্ঘদিনের খারাপ অভ্যাস থেকে। তাই প্রতিদিন মাত্র ৬০ সেকেন্ড সময় নিয়ে নিজের জীবনযাত্রা পর্যালোচনা করুন। ধূমপান ছাড়ুন, নিয়মিত হাঁটুন, স্বাস্থ্যকর খাবার খান, পর্যাপ্ত ঘুমান এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। এই ছোট ছোট পরিবর্তনই ভবিষ্যতে আপনার হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে সাহায্য করবে।