১৬ বছর বয়সে বিষণ সিং বেদির সঙ্গে তুলনা হয়। ১৯ বছরে বিশ্বকাপ জয়। তারপরই তাঁর পুরো জগৎ ভেঙে পড়ে। প্রথমে আইপিএলের স্ক্যান্ডালে জড়িয়ে পড়েন। তারপর হতাশায় রেলের প্লাটফর্মে গাড়ি চালিয়ে উঠে পড়েন। ক্রিকেট জীবন শেষ হওয়ার জন্য দুটো অভিযোগ যথেষ্ট। তবে ভাগ্যে অন্য কিছু ছিল।
2
9
বদলায়নি জার্সির রং, তবে সাত সমুদ্র তেরো নদী পার করে হাজির হন মার্কিন মুলুকে। শুরু নতুন জীবন। মুম্বইয়ের নীল জার্সি ছেড়ে চাপিয়ে নেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্লু জার্সি।
3
9
সাধারণত ন'বছরের বাচ্চারা কানমলা না খেয়ে অঙ্ক ক্লাস শেষ করতে চায়। কিন্তু হরমিত সিংয়ের লক্ষ্য ছিল ভিন্ন। সেই বয়স থেকেই বলকে কথা বলাতে শুরু করেন। শিবাজী পার্ক জিমখানার কোচরা তাঁকে ছোট বয়সেই স্পট করে। পদ্মকর শিবালকর, প্রবীণ আমরের তত্ত্বাবধানে কোচিং চলে। ১৬ বছরে রমাকান্ত আচরেকর স্কলারশিপ পান।
4
9
একবার তাঁকে বল করতে দেখেন দিলীপ সারদেশাই। বলেন, বাচ্চাটা তাঁকে বিষণ বেদিকে মনে করাচ্ছে। ১৭ বছর বয়সে মুম্বইয়ের ড্রেসিংরুমে প্রবেশ। রোহিত শর্মা ছিলেন। এছাড়াও ছিলেন অজিঙ্ক রাহানে অজিত আগরকর, ওয়াসিম জাফর। প্রথম ম্যাচেই ৭ উইকেট নেন। তামিলনাড়ুর বিরুদ্ধে তৃতীয় ম্যাচে নেন ৩ উইকেট।
5
9
প্রথম অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে প্রাণ দিয়ে বল করেন। বিশেষ মাথা খাটায়নি। প্রচুর লুজ বল দেন। তাঁকে বসিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু একই টুর্নামেন্টে প্রত্যাবর্তন করেন। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল এবং অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ফাইনাল খেলেন। ইয়ান চ্যাপেল বলেন, ভারতের হয়ে খেলার জন্য তৈরি। কিন্তু অপেক্ষার অবসান ঘটেনি। মরশুম পেরিয়ে যায়। মাঝে একাধিক নির্বাচনী বৈঠক হয়। কিন্তু তাঁর ফোন বাজেনি।
6
9
২০১৩ সালের জুনে আইপিএলের স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে নির্বাসিত হন হরমিত। কিন্তু নির্দোষ হওয়ায়, ক্লিনচিট পান। তবে গায়ে কলঙ্কের দাগ লেগে যায়। ভারতে ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া দুস্কর হয়ে ওঠে। বিদর্ভের হয়ে খেলার চেষ্টা করলেও ফলপ্রসূ হয়নি। বোর্ডের ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার আগেই মরশুম প্রায় শেষের মুখে চলে আসে। তখন তাঁর বয়স মাত্র ২০।
7
9
২০১৭ সালে মুম্বইয়ে ফিরলেও সুযোগ মেলেনি। হতাশ হয়ে গাড়ি চালিয়ে রেলের প্লাটফর্মে উঠে পড়েন। জানা যায়, মদ্যপ অবস্থায় এই কাণ্ড ঘটান। কিন্তু নিজের শহর, নিজের জীবনে হারিয়ে যান হরমিত। ২০১৮ সালে ত্রিপুরাতে যান। কিন্তু সেখানে থিতু হতে পারেননি। ২০১৯ সালে আমেরিকা থেকে মেল পান। অপেক্ষা না করে কেটে ফেলেন টিকিট। এটাই জীবন বদলানো মুহূর্ত।
8
9
২০২০ সালে কোভিডের ধাক্কা। সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় ক্রিকেট। রুটিরুজির জন্য অ্যাটলান্টা, হাউস্টন, সিয়াটেলে বিভিন্ন কাজ করেন। ডেলিভারি অ্যাপেও কাজ করেন। ভারতে অপেক্ষার পর মার্কিন মুলুকেও অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হয়। আমেরিকার জার্সিতে ২০২৪ টি-২০ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পান। ভারতের বিরুদ্ধে যশপ্রীত বুমরার বলের মুখোমুখি হন। প্রথম বলেই ছক্কা। এরপর ২২ বলে ৩৮ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দলকে প্রায় জিতিয়েই দিয়েছিলেন।
9
9
২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতে ফেরেন। পরনে নীল জার্সি। তবে আমেরিকার। ২০১০, ২০১২ সালে ড্রেসিংরুমের ভাইদের বিরুদ্ধে। এদের অনেকের সঙ্গেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন। বর্তমানে তাঁরা প্রতিপক্ষ। ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচে টিম ইন্ডিয়াকে চাপে ফেলে দেন হরমিত। ২৬ রানে নেন ২ উইকেট। প্রত্যাবর্তন নয়, একেই বলে হার না মানার লড়াই।