সমগ্র প্রাণীজগৎ নানা অদ্ভুত রহস্য এবং বৈচিত্র্যে ভরপুর। কোনও প্রাণী ওঁর গতি আর চপলতার জন্য বিখ্যাত, তো কেউ আবার ওঁর শিকার ধরার অসামান্য দক্ষতা বা প্রখর বুদ্ধির জন্য প্রশংসিত। কিন্তু আমাদের খুব চেনা চারপাশের প্রাণীজগতের মধ্যেই এমন এক সদস্য রয়েছে, যে এক অত্যন্ত অদ্ভুত শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে বাকিদের থেকে আলাদা। এক অদ্ভুত শারীরিক গঠনের কারণে এরা শত চেষ্টা করলেও সরাসরি আকাশের দিকে তাকাতে পারে না!
2
9
প্রাণীটি আর কেউ নয়, আমাদের অতি পরিচিত শূকর। অনেকেই এদের নোংরা ভেবে ভুল করলেও, প্রাণীবিজ্ঞানীদের মতে এরা পৃথিবীর অন্যতম বুদ্ধিমান প্রাণী।
3
9
কেন আকাশের দিকে তাকাতে পারে না শূকর? শূকরের এই সীমাবদ্ধতার পেছনে লুকিয়ে রয়েছে ওঁর ঘাড়, পেশি এবং মেরুদণ্ডের এক বিশেষ শারীরিক গঠন। মানুষ বা অন্যান্য অনেক পশুর মতো শূকরের ঘাড়ের পেশি ও কশেরুকা (Vertebrae) নমনীয় নয়, বরং অত্যন্ত শক্ত ও দৃঢ়ভাবে জোড়া থাকে।
4
9
এই অনমনীয় গঠনের কারণে ওঁর ঘাড়ের নাড়াচড়া করার ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। এরা ওঁর ঘাড়কে ওপরের দিকে বাঁকাতে বা তেমনভাবে ঘোরাতে পারে না। ফলে সোজা দাঁড়িয়ে ওপরের দিকে মাথা তুলে আকাশ দেখা এদের পক্ষে শারীরিকভাবে অসম্ভব। সারাটা জীবন এদের মাটির দিকে তাকিয়েই কাটিয়ে দিতে হয়।
5
9
আপাতদৃষ্টিতে এটিকে এক মস্ত বড় অসুবিধা বা প্রতিবন্ধকতা মনে হলেও, এটি আসলে ওঁর জীবনধারণের জন্য প্রকৃতির এক নিখুঁত বরদান বা অভিযোজন। শূকর মূলত মাটির নীচে বা মাটিতে পড়ে থাকা খাবার খুঁজে খেয়ে বেঁচে থাকে। ওঁর শক্তিশালী থুতনি দিয়ে মাটির তলা থেকে শিকড়, শস্যদানা, পোকা-মাকড় এবং অন্যান্য খাবার খুঁড়ে বের করতে ওঁর এই নিচের দিকে ঝুঁকে থাকা শরীর এবং শক্ত ঘাড় দারুণভাবে সাহায্য করে।
6
9
শূকরকে নিয়ে মানুষের মনে অনেক ভুল ধারণা থাকলেও বিজ্ঞান বলছে অন্য কথা। একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণীদের তালিকায় ওপরের দিকেই থাকবে এরা। এমনকী জটিল কোনও ধাঁধা বা সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে এরা অনেক সময় পোষা কুকুরকেও টেক্কা দিয়ে দেয়।
7
9
অন্যদিকে, বৈজ্ঞানিক গবেষণাগারের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে শূকরকে সাধারণ ভিডিও গেমের জয়স্টিক নিয়ন্ত্রণ করা শেখানো হয়েছে এবং তারা সফলভাবে তা করেও দেখিয়েছে!
8
9
গবেষকেরা পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, শূকরেরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করার জন্য এবং নিজেদের আনন্দ, রাগ, খিদে বা বিপদের অনুভূতি প্রকাশ করতে ২০টিরও বেশি ভিন্ন ভিন্ন আওয়াজ বা ডাক ব্যবহার করে থাকে।
9
9
সরাসরি দাঁড়িয়ে বা মাথা উঁচু করে আকাশ দেখা এদের পক্ষে অসম্ভব হলেও, অন্য উপায়ে এরা আকাশের দেখা পেতে পারে। যখন এরা মাটিতে পিঠ ঠেকিয়ে বা কাত হয়ে শুয়ে থাকে, কিংবা কোনও উঁচু পাহাড়ি বা ঢালু জায়গায় অবস্থান করে, তখন ওঁর চোখের দৃষ্টির কোণ বদলে যায়। একমাত্র তখনই এরা প্রকৃতির সেই নীল আকাশের কিছুটা ঝলক দেখতে পায়। প্রকৃতির এই অদ্ভুত কারিগরি সত্যিই আমাদের অবাক করে!