জিএসটি ব্যবস্থায় একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিল জিএসটি কাউন্সিল। ব্যবসায়ীদের জন্য কর সংক্রান্ত নিয়মকানুন আরও সহজ করার লক্ষ্যে একাধিক সংস্কারে সম্মতি দেওয়া হয়েছে।
2
11
নতুন ব্যবস্থায় কমতে চলেছে সাধারণ জরিমানার সর্বোচ্চ অঙ্ক, বাড়ছে ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে ন্যূনতম কর ফাঁকির সীমা এবং রুটিন নিয়মভঙ্গের ঘটনায় জিএসটি আধিকারিকদের গ্রেপ্তারের ক্ষমতা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলি ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
3
11
গত বছর জিএসটি-র বিভিন্ন করের হার কমানো এবং করের স্তর পুনর্বিন্যাসের পর এবার মূলত ব্যবসায়ীদের নিয়ম মেনে চলার খরচ ও আইনি জটিলতা কমানোর দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য এই সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
4
11
প্রথমত, নিয়মিত কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত অনিয়মের ক্ষেত্রে জিএসটি আধিকারিকদের গ্রেপ্তারের ক্ষমতা তুলে নেওয়া হবে। পরিবর্তে যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে প্রযুক্তিনির্ভর ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সিস্টেম-ভিত্তিক নিয়মকে। তবে এর অর্থ এই নয় যে কর ফাঁকি বা গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।
5
11
দ্বিতীয়ত, সাধারণ জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা ২৫ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ১০ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে ধরনের অনিয়মের জন্য আলাদা করে নির্দিষ্ট জরিমানার বিধান নেই, মূলত সেখানেই এই সাধারণ জরিমানার নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
6
11
তৃতীয়ত, ফৌজদারি মামলা শুরু করার ক্ষেত্রে ন্যূনতম কর ফাঁকির সীমা এক কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হবে। এর ফলে তুলনামূলক কম অঙ্কের কর সংক্রান্ত অনিয়মের ক্ষেত্রে ফৌজদারি মামলা হওয়ার সম্ভাবনা কমতে পারে।
7
11
এছাড়া, অপরাধের জন্য ন্যূনতম শাস্তি বাধ্যতামূলক রাখার নিয়মও তুলে নেওয়া হবে। আদালত পরিস্থিতি বিবেচনা করে জরিমানা, কারাদণ্ড অথবা দুটিই দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
8
11
নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বর্তমানে চলতে থাকা মামলা বা তদন্তের ক্ষেত্রে কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণত শাস্তি সংক্রান্ত এবং প্রক্রিয়াগত আইনের সংশোধন ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, যদি না সংশোধনী আইনে স্পষ্টভাবে অতীতের ক্ষেত্রেও তা কার্যকর করার কথা বলা থাকে। ফলে পুরনো মামলায় নতুন নিয়মের সুবিধা মিলবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট আইনি বিধানের উপর নির্ভর করবে।
9
11
ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। কোনও সরবরাহকারী পরবর্তী সময়ে নিয়ম ভাঙলে, শুধুমাত্র সেই কারণে যোগ্য ক্রেতার ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট বাতিল করা যাবে না—এমন সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
10
11
পাশাপাশি, নির্দিষ্ট জিএসটি ধারায় শোকজ নোটিসের ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকার ন্যূনতম সীমা চালুর কথাও রয়েছে, যার আওতায় কিছু বিচারাধীন মামলাও আসতে পারে।
11
11
সব মিলিয়ে, নতুন সংস্কারের লক্ষ্য ব্যবসায়ীদের উপর অপ্রয়োজনীয় আইনি চাপ কমানো। তবে ইচ্ছাকৃত কর ফাঁকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা বন্ধ হচ্ছে না; বরং নিয়মিত অনিয়ম ও গুরুতর অপরাধের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করাই এই পরিবর্তনের অন্যতম উদ্দেশ্য।