২০২৫ সালে সোনার বাজারে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে। বিশ্বের অনিশ্চয়তা, মুদ্রাস্ফীতি এবং শেয়ারবাজারের অস্থিরতার মধ্যে অনেক বিনিয়োগকারী নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকেছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে—২০২৬ সালেও কি এই হলুদ ধাতু তার উত্থানের ধারা বজায় রাখতে পারবে?
2
9
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনা ঐতিহ্যগতভাবে একটি “সেফ হেভেন” সম্পদ। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক উত্তেজনা বা বাজারে বড় ওঠানামার সময় বিনিয়োগকারীরা প্রায়ই সোনায় বিনিয়োগ বাড়ান। তাই বিশ্ব অর্থনীতির পরিস্থিতি যদি অস্থির থাকে, তাহলে সোনার চাহিদা শক্তিশালী থাকতে পারে।
3
9
তবে এখন শুধু গয়না কিনেই সোনায় বিনিয়োগ করা হয় না। আধুনিক আর্থিক বাজারে সোনায় বিনিয়োগের একাধিক বিকল্প তৈরি হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সুবিধাজনক।
4
9
ডিজিটাল বা কাগজভিত্তিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জনপ্রিয় বিকল্প হল গোল্ড ইটিএফ। এটি মূলত স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হওয়া একটি ফান্ড, যা সোনার দামের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা বাস্তবে সোনা না কিনেও সোনার দামের ওঠানামা থেকে লাভ করতে পারেন। এখানে সোনা সংরক্ষণ বা বীমার খরচ থাকে না, এবং বাজার খোলা থাকলেই সহজে কেনাবেচা করা যায়।
5
9
আরেকটি বিকল্প হল গোল্ড ফান্ড । এই ফান্ডগুলো সাধারণত গোল্ড ইটিএফে বিনিয়োগ করে। যেসব বিনিয়োগকারীর ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট নেই, তারাও মিউচুয়াল ফান্ডের মতো সহজভাবে এতে বিনিয়োগ করতে পারেন।
6
9
যারা বাস্তব সোনা হাতে রাখতে চান, তাদের জন্য এখনও জনপ্রিয় বিকল্প হল সোনার মুদ্রা বা বুলিয়ন। এই ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা সরাসরি সোনা কিনে নিজেদের কাছে রাখতে পারেন। গোল্ড বুলিয়ান আকারে সোনা কেনার সুবিধা হল তাৎক্ষণিক মালিকানা এবং বাস্তব সম্পদ হিসেবে ব্যবহারযোগ্যতা।
7
9
অন্যদিকে, ভারতীয় সমাজে গয়নার মাধ্যমে সোনায় বিনিয়োগের একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। একদিকে যেমন অলংকার হিসেবে ব্যবহার করা যায়, অন্যদিকে প্রয়োজনে তা বিক্রি বা বন্ধক রেখে অর্থ সংগ্রহ করাও সম্ভব। তবে গয়নার ক্ষেত্রে মেকিং চার্জ এবং বিশুদ্ধতার বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।
8
9
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সোনায় বিনিয়োগের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বৈচিত্র্য। অর্থাৎ, সম্পূর্ণ বিনিয়োগ সোনায় না রেখে একটি নির্দিষ্ট অংশ—যেমন ৫ থেকে ১৫ শতাংশ—সোনায় রাখা হলে পোর্টফোলিওর ঝুঁকি কমানো যায়।
9
9
সব মিলিয়ে বলা যায়, ২০২৫ সালে সোনার যে শক্তিশালী উত্থান দেখা গেছে, তা অনেক বিনিয়োগকারীর আগ্রহ বাড়িয়েছে। ২০২৬ সালে বাজারের পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে সোনার ভবিষ্যৎ পথ। তবে দীর্ঘমেয়াদে সোনা এখনও অনেকের কাছে স্থিতিশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ বিকল্প হিসেবেই রয়ে গেছে।