প্রশান্ত মহাসাগরের হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে এক আবহাওয়াগত পরিবর্তন ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করছে। কিন্তু তার প্রভাব পৌঁছে যেতে পারে ভারতের খামার, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, খাদ্য সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।
2
12
বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, আগামী দিনে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ‘গডজিলা এল নিনো’ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা বিশ্বের বহু দেশের পাশাপাশি ভারতকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
3
12
এল নিনো হল একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু ঘটনা, যা তখন ঘটে যখন মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বেড়ে যায়। এই উষ্ণতা বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ ও আবহাওয়ার ধরন বদলে দেয়। এর ফলে কোথাও খরা, কোথাও অতিবৃষ্টি, কোথাও আবার তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে।
4
12
বিজ্ঞানীরা ‘গডজিলা এল নিনো’ শব্দটি ব্যবহার করেন এমন এল নিনো ঘটনাকে বোঝাতে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী এবং দীর্ঘস্থায়ী। ১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬ সালের এল নিনোকে এই শ্রেণির মধ্যে ধরা হয়। ওই সময় বিশ্বজুড়ে রেকর্ড তাপমাত্রা, খরা, দাবানল এবং কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতির ঘটনা দেখা গিয়েছিল।
5
12
ভারতের ক্ষেত্রে এল নিনোর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে বর্ষার উপর। দেশের কৃষির বড় অংশ এখনও মৌসুমি বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল। শক্তিশালী এল নিনো দেখা দিলে সাধারণত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বৃষ্টিপাত দুর্বল হয়ে পড়ে।
6
12
ফলে ধান, ডাল, আখ, তুলা এবং অন্যান্য ফসলের উৎপাদন কমে যেতে পারে। কৃষি উৎপাদন হ্রাস পেলে খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়।
7
12
শুধু কৃষিই নয়, বিদ্যুৎ খাতও চাপে পড়তে পারে। এল নিনোর কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, কুলার ও ফ্যানের ব্যবহার বাড়ে। ফলে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে।
8
12
একই সময়ে বৃষ্টিপাত কম হলে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
9
12
জলসম্পদের ক্ষেত্রেও উদ্বেগ বাড়ছে। দুর্বল বর্ষার কারণে জলাধার, নদী এবং ভূগর্ভস্থ জলের স্তর কমে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে পানীয় জল সরবরাহ, সেচ এবং শিল্প উৎপাদনের উপর। বিশেষ করে যেসব রাজ্যে জলসংকট আগে থেকেই রয়েছে, সেখানে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
10
12
বিশ্ব অর্থনীতিতেও শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব পড়ে। খাদ্যশস্যের উৎপাদন কমে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়তে পারে। ফলে আমদানি-নির্ভর দেশগুলির ব্যয় বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে জলবায়ুজনিত বিপর্যয়ের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে মুদ্রাস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে।
11
12
তবে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এল নিনোর সম্ভাবনা নিয়ে এখনও পর্যবেক্ষণ চলছে। এটি কতটা শক্তিশালী হবে এবং তার প্রভাব কোন কোন অঞ্চলে কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক মাসের সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির উপর।
12
12
তবুও বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা স্পষ্ট—প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হওয়া এই জলবায়ুগত পরিবর্তন যদি ‘গডজিলা এল নিনো’-তে পরিণত হয়, তাহলে তার প্রভাব কৃষি, জল, বিদ্যুৎ এবং অর্থনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে অনুভূত হতে পারে। তাই এখন থেকেই পরিস্থিতির উপর নজর রাখা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।