এক ফোনেই বাড়িতে পৌঁছে যাবে সেক্স টয়! বিরাট ব্যবসা ফেঁদে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় বাঙালি যুবকের, তারপর কী হল?
নিজস্ব সংবাদদাতা
৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩ : ২৯
শেয়ার করুন
1
9
গোয়াকে কেন্দ্র করে সামনে এসেছে এক অস্বস্তিকর কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সাইবার অপরাধের ঘটনা। অনলাইনে সেক্স টয় বিক্রির নামে দেশজুড়ে বহু মানুষকে প্রতারণা করার অভিযোগে একটি সংগঠিত চক্রের পর্দাফাঁস করেছে গোয়া পুলিশ। নিজেদের গোয়াভিত্তিক ব্যবসা হিসেবে তুলে ধরে এই চক্র পর্যটক ও অনলাইন ক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করত, কিন্তু পণ্য সরবরাহ করত না। তদন্তে উঠে এসেছে, এই প্রতারণা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বরং গোয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে ধরা পড়া একাধিক অনলাইন প্রতারণা চক্রেরই অংশ।
2
9
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা একটি ভুয়ো ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করেছিল, যেখানে দাবি করা হতো যে সংস্থাটি গোয়ায় অবস্থিত। ওয়েবসাইটে নানা ধরনের সেক্স টয় আকর্ষণীয় ছাড়ে বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হতো। ভারতে এখনও এই ধরনের পণ্য কেনা সামাজিকভাবে সংবেদনশীল হওয়ায়, প্রতারকরা ক্রেতাদের গোপনীয়তার মানসিকতাকে সুচারুভাবে কাজে লাগায়। ‘ডিসক্রিট ডেলিভারি’, ‘সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত প্যাকেজিং’-এর মতো আশ্বাস দিয়ে ক্রেতাদের বিশ্বাস অর্জন করা হয়।
3
9
একবার অনলাইনে টাকা মেটানো হলেই যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। ফোন নম্বর বন্ধ, ইমেল নিষ্ক্রিয়, ওয়েবসাইট উধাও—পণ্য আর পৌঁছত না। পুলিশি তদন্তে আরও জানা যায়, অনলাইনে যে ব্যবসায়িক ঠিকানা দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার কোনও অস্তিত্বই নেই।
4
9
উত্তর গোয়ার পুলিশ সুপার অক্ষত কৌশল জানিয়েছেন, এই ঘটনায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। তাঁর কথায়, “প্রতারকরা খুব ভালোভাবে জানত কাদের টার্গেট করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা সামাজিক লজ্জার কারণে অভিযোগ জানাতে দেরি করেন বা জানাতেই চান না। সেই দুর্বলতাকেই কাজে লাগানো হয়েছে।”
5
9
ডিজিটাল লেনদেন ও অনলাইন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ শেষ পর্যন্ত এই চক্রের মূল অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে কলকাতার বাসিন্দা শুভেন্দু কুমার দাস (৩৭)। তদন্তকারীদের দাবি, অনলাইন পেমেন্টের সূত্র, আইপি অ্যাড্রেস এবং ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বিশ্লেষণ করেই তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশের মতে, এই প্রতারণা গোয়া-কেন্দ্রিক হলেও এর প্রভাব সারা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল।
6
9
এই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে গোয়া পুলিশ আরও দুটি বড় অনলাইন প্রতারণার পর্দাফাঁস করেছে। একদিকে রয়েছে ভুয়ো হোটেল বুকিং—অনলাইনে অস্তিত্বহীন হোটেলের বিজ্ঞাপন দিয়ে পর্যটকদের কাছ থেকে আগাম টাকা নেওয়া হচ্ছিল। অন্যদিকে, জলক্রীড়া বা অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের নামে ভুয়ো টিকিট বিক্রির অভিযোগও সামনে এসেছে। অনেক পর্যটক গোয়ায় পৌঁছে জানতে পারেন, যে পরিষেবার জন্য টাকা দিয়েছেন, তার কোনও বাস্তব অস্তিত্বই নেই।
7
9
পুলিশ আধিকারিকদের মতে, এই সমস্ত ঘটনাই দেখাচ্ছে যে গোয়া এখন সাইবার অপরাধীদের কাছে একটি ‘সহজ লক্ষ্য’ হয়ে উঠছে, যেখানে পর্যটন, অনলাইন বুকিং এবং ডিজিটাল লেনদেনকে কেন্দ্র করে প্রতারণার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া বিজ্ঞাপন, ভুয়ো রিভিউ এবং অতিরিক্ত ছাড়ের লোভ ব্যবহার করে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা হচ্ছে।
8
9
এই প্রেক্ষাপটে গোয়া পুলিশ পর্যটক ও সাধারণ অনলাইন ক্রেতাদের সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছে। অপরিচিত ওয়েবসাইট বা পরিষেবায় আগাম টাকা দেওয়ার আগে ব্যবসার বৈধতা যাচাই করা, সন্দেহজনক অফার এড়িয়ে চলা এবং প্রতারণার শিকার হলে অবিলম্বে সাইবার অপরাধ হেল্পলাইন ১৯৩০ নম্বরে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
9
9
এই সেক্স টয় প্রতারণা হয়তো বিষয়গতভাবে চাঞ্চল্যকর, কিন্তু এর তাৎপর্য অনেক গভীর। এটি দেখিয়ে দেয় যে অনলাইন প্রতারণা এখন শুধু সাধারণ পণ্য বা পরিষেবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—প্রতারকরা মানুষের সবচেয়ে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল প্রয়োজনকেও নিশানা করছে। গোয়া পুলিশের ভাষায়, “যা অস্বাভাবিক রকম ভালো বা সস্তা মনে হয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তার পেছনে কোনও ফাঁদ লুকিয়ে থাকে।”