রাতে মৃতদেহ একা রাখা হয় না কেন? লোকাচার নাকি নেপথ্যে অন্য কারণ, কী বলছে গরুড় পুরাণ
নিজস্ব সংবাদদাতা
৭ অক্টোবর ২০২৬ ১২ : ৫২
শেয়ার করুন
1
10
মৃত্যু জীবনের চরম সত্য। প্রিয়জনকে হারানোর পর শোকের পাশাপাশি হিন্দু ধর্মীয় রীতি মেনে শুরু হয় শেষকৃত্যের প্রস্তুতিও। এই শেষকৃত্যকে ঘিরে রয়েছে একাধিক নিয়ম ও বিশ্বাস। সূর্যাস্তের পর সাধারণত দাহসংস্কার না করা এবং রাতের বেলায় মৃতদেহকে একা না রাখার নিয়ম আছে। গরুড় পুরাণের সঙ্গে সম্পর্কিত ধর্মীয় বিশ্বাসে এর পিছনে একাধিক কারণের কথা বলা হয়েছে।
2
10
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর পর আত্মা এবং শরীরের সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হলেও কিছু সময়ের জন্য আত্মার নিজের দেহ এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি টান থাকতে পারে। সেই কারণে মৃতদেহের কাছাকাছি পরিবারের কেউ থাকেন এবং প্রার্থনা করেন।
3
10
আরও একটি বিশ্বাস হল, রাতের সময়ে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব বাড়তে পারে। মৃতদেহ যদি একা পড়ে থাকে, তাহলে অশুভ বা নেতিবাচক শক্তি তার উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হয়। সেই কারণেই রাতভর মৃতদেহের কাছে পরিবারের কোনও সদস্য থাকার রীতি প্রচলিত হয়েছে।
4
10
কিছু ধর্মীয় বিশ্বাসে বলা হয়, রাতের সময়ে তান্ত্রিক ক্রিয়াকলাপের প্রভাব বেশি থাকে। সেই কারণে মৃতদেহকে একা ফেলে রাখা উচিত নয়। ধারণা করা হয়, কোনও অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ যাতে মৃতদেহের অপব্যবহার করতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।
5
10
তবে এগুলি মূলত ধর্মীয় বিশ্বাস ও লোকাচারের অংশ। এগুলিকে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়৷ তবে শুধু ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, বাস্তব কারণও রয়েছে। আগে অনেক জায়গায় মৃতদেহ খোলা জায়গায় বা বাড়ির বাইরে রাখা হত। সেক্ষেত্রে রাতে মৃতদেহ একা থাকলে কুকুর, বিড়াল বা অন্য কোনও প্রাণী দেহটির ক্ষতি করতে পারত। তাই পরিবারের কোনও সদস্য পাশে থেকে পাহারা দিতেন।
6
10
মৃত্যুর কিছু সময় পর শরীরে স্বাভাবিক জৈবিক পরিবর্তন শুরু হয়। এর ফলে দুর্গন্ধও তৈরি হতে পারে। এই কারণেও মৃতদেহের আশপাশে ধূপ বা আগরবাতি জ্বালানোর রীতি দেখা যায়।
7
10
হিন্দু ধর্মীয় পরম্পরায় সূর্যাস্তের পর দাহসংস্কার না করার একটি প্রচলিত নিয়ম রয়েছে। কোনও ব্যক্তির মৃত্যু যদি সন্ধ্যার পর হয়, তাহলে অনেক পরিবার পরের দিন সূর্যোদয়ের পর শেষকৃত্য সম্পন্ন করে।
8
10
গরুড় পুরাণ মতে, রাতে দাহসংস্কার করলে আত্মার পরবর্তী যাত্রায় বাধা তৈরি হতে পারে। সূর্যাস্তের পর স্বর্গের দ্বার বন্ধ হয়ে যায় এবং অশুভ শক্তির প্রভাব বৃদ্ধি পায়। তাই দিনের আলোয় শেষকৃত্য সম্পন্ন করাকেই অধিক শুভ বলে মনে করা হয়।
9
10
হিন্দু ধর্মীয় দর্শনে শরীরকে নশ্বর এবং আত্মাকে অবিনশ্বর বলে মনে করা হয়। মৃত্যুর পর আত্মা দেহ ত্যাগ করে অন্য এক যাত্রায় এগিয়ে যায়—এমন বিশ্বাস রয়েছে। সেই কারণে শেষকৃত্যকে শুধুমাত্র মৃতদেহ দাহ করার প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হয় না। বরং এটি আত্মার পরবর্তী যাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার।
10
10
এই বিশ্বাস থেকেই মৃতদেহের প্রতি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সম্মান দেখানো, তার পাশে থাকা এবং প্রার্থনা করার রীতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হয়। কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর সময় তাঁর সন্তান উপস্থিত না থাকলে কিছু ক্ষেত্রে সন্তানের আসার অপেক্ষা করার কথাও বলা হয়েছে। ধারণা করা হয়, সন্তান মুখাগ্নি করলে মৃতের আত্মার মুক্তির পথ সম্পূর্ণ হয়।