মাসের শেষে জমাবেন ভেবে কোনও মাসেই সঞ্চয় হচ্ছে না, ভবিষ্যত সুরক্ষিত করতে মেনে চলুন ৭ অভ্যাস
নিজস্ব সংবাদদাতা
২২ আগস্ট ২০২৬ ১৫ : ০৮
শেয়ার করুন
1
12
শুধু বেশি টাকা রোজগার করলেই ধনী হওয়া যায় না। মাসের শেষে হাতে কত টাকা থাকছে, কতটা সঞ্চয় হচ্ছে এবং সেই টাকা কোথায় বিনিয়োগ করা হচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা অনেকটাই নির্ভর করে এই অভ্যাসগুলির উপর।
2
12
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পদ তৈরি করার ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে শুরু করার চেয়ে নিয়মিত সঞ্চয় ও বিনিয়োগের অভ্যাস তৈরি করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভবিষ্যতের জন্য আর্থিকভাবে শক্তিশালী হতে চাইলে দৈনন্দিন জীবনে কয়েকটি সহজ অভ্যাস তৈরি করা যেতে পারে।
3
12
খরচের আগে সঞ্চয় করুন: বেতন হাতে পাওয়ার পর প্রথমেই সমস্ত খরচ করে শেষে যা বাঁচবে তা সঞ্চয় করার অভ্যাস বদলানো জরুরি। বরং আয় হাতে আসার পর নির্দিষ্ট একটি অংশ সরিয়ে রাখুন। সেটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট, RD, FD বা আপনার আর্থিক লক্ষ্যের উপযুক্ত কোনও বিনিয়োগে রাখা যেতে পারে। অটোমেটিক সেভিংস বা SIP-এর মতো ব্যবস্থা ব্যবহার করলে প্রতি মাসে আলাদা করে টাকা সরিয়ে রাখার কথা মনে রাখতেও হয় না।
4
12
কোথায় টাকা খরচ হচ্ছে, হিসাব রাখুন: অনেক সময় বড় কোনও খরচ নয়, বরং ছোট ছোট খরচই মাসের শেষে বড় অঙ্কে পরিণত হয়। বাইরে খাওয়া, অনলাইন শপিং, অপ্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশন কিংবা বারবার করা ছোট UPI পেমেন্ট—সবকিছুর হিসাব রাখুন। মাসে অন্তত দু'বার আয়-ব্যয়ের হিসাব মিলিয়ে দেখলে কোথায় অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো সম্ভব, তা সহজেই বোঝা যায়।
5
12
উচ্চ সুদের ঋণ যত দ্রুত সম্ভব কমান: ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া বা বেশি সুদের ব্যক্তিগত ঋণ দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ তৈরির পথে বড় বাধা হতে পারে। কারণ আপনি যে টাকা বিনিয়োগ করে বাড়াতে পারতেন, তার একটি বড় অংশ সুদ মেটাতে চলে যেতে পারে। তাই একাধিক ঋণ থাকলে সুদের হার, বকেয়া টাকা এবং EMI দেখে পরিকল্পনা করে ঋণ কমানোর চেষ্টা করুন।
6
12
জরুরি তহবিল তৈরি করুন: হঠাৎ চাকরি চলে যাওয়া, চিকিৎসার খরচ বা অন্য কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে যাতে বিনিয়োগ ভেঙে ফেলতে বা নতুন করে ঋণ নিতে না হয়, তার জন্য Emergency Fund তৈরি করা দরকার।
7
12
কত টাকা রাখা উচিত তা ব্যক্তিভেদে আলাদা হলেও অনেক আর্থিক বিশেষজ্ঞ কয়েক মাসের প্রয়োজনীয় খরচের সমপরিমাণ অর্থ সহজে ব্যবহারযোগ্য জায়গায় রাখার পরামর্শ দেন। সাধারণত তিন থেকে ছয় মাসের মাইনে জরুরি তহবিল হিসাবে রাখতে বলা হয়৷
8
12
নিয়মিত বিনিয়োগ করুন: শুধু টাকা জমিয়ে রাখলে দীর্ঘমেয়াদে মূল্যবৃদ্ধি বা inflation-এর প্রভাব বিবেচনা করতে হয়। তাই নিজের আর্থিক লক্ষ্য, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা এবং সময়সীমা অনুযায়ী বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
9
12
SIP, index fund, EPF, NPS, PPF, FD বা অন্যান্য বিনিয়োগের মধ্যে কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত, তা ব্যক্তিগত পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। নিয়মিত বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল দীর্ঘ সময় ধরে compounding-এর সুযোগ পাওয়া।
10
12
আয় বাড়লেও জীবনযাত্রার খরচ একই হারে বাড়াবেন না: বেতন বাড়লেই যদি বাড়ি, গাড়ি, শপিং, রেস্তোরাঁ বা অন্যান্য বিলাসী খরচ বাড়তে থাকে, তাহলে আয় বাড়লেও সঞ্চয়ের পরিমাণ খুব একটা বাড়বে না।তাই আয় বাড়লে তার পুরোটা খরচ না করে একটি অংশ সঞ্চয় ও বিনিয়োগে বাড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ জীবনযাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ তৈরিতে সাহায্য করতে পারে।
11
12
এক রাতের মধ্যে বিপুল সম্পদ তৈরি করার কোনও নিশ্চিত ফর্মুলা নেই। দ্রুত লাভের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ বা বাজারের সাময়িক ট্রেন্ডের পিছনে ছোটা বিপজ্জনক হতে পারে। বরং নির্দিষ্ট আর্থিক লক্ষ্য তৈরি করে নিয়মিত সঞ্চয়, বিনিয়োগ, ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং সময়ের সঙ্গে সম্পদ বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া ভালো। দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ তৈরির ক্ষেত্রে ধৈর্য ও ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
12
12
সম্পদ তৈরি করার জন্য সবসময় বিপুল বেতন প্রয়োজন হয় না। বরং আয়ের তুলনায় খরচ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত সঞ্চয়, জরুরি তহবিল, ঋণ কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অভ্যাস ধীরে ধীরে শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি তৈরি করতে পারে।