মাঝ-আকাশে যাত্রীবোঝাই বিমানকে মাটিতে আছড়ে ফেলার ছক ছিল স্পষ্ট, কিন্তু শেষ মুহূর্তে এক ভারতীয় ক্যাপ্টেনের অদম্য লড়াই আর যাত্রীদের তৎপরতায় অল্পের জন্য এড়ানো গেল ৯/১১ ধাঁচের এক ভয়ঙ্কর বিপর্যয়।
2
8
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বোয়িং ৭৩৭ বিমানে সহকারী পাইলট হামাম আল-হাম্মামির তাণ্ডবের যে বিবরণ সামনে আসছে, তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। ইতালীয় সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথম পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে বিমানের দু’টি ইঞ্জিনই বন্ধ করে দিয়েছিলেন অভিযুক্ত সহকারী পাইলট।
3
8
উড়ান চলাকালীন ককপিটে রাখা কুঠার দিয়ে প্রধান পাইলট স্মিত মচ্ছরের মাথায় আচমকাই পিছন থেকে কোপ বসান হামাম। উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট—ক্যাপ্টেনকে নিকেশ করে বিমানটিকে তেল আভিভের কোনও বহুতলে আছড়ে ফেলা। কিন্তু রক্তাক্ত অবস্থাতেও হার মানেননি ক্যাপ্টেন স্মিত।
4
8
তিনি প্রাণপণে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং ধস্তাধস্তির মাঝেই কোনওমতে ককপিটের দরজা খুলে বাইরের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন। ভিতরে কী চলছে বাইরে থাকা লোকজন বুঝে ফেলতেই নিজের হিসেবের গোলমাল আঁচ করতে পারেন হামাম। তিনি বুঝতে পারেন, বিমান তেল আভিভ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া আর সম্ভব নয়।
5
8
এর পরই দ্রুত ‘প্ল্যান বি’ কার্যকর করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন অভিযুক্ত। তিনি সটান অটোপাইলট বন্ধ করে দেন এবং বিমানের কন্ট্রোল স্টিক সজোরে সামনের দিকে ঠেলে দেন। একই সঙ্গে বিমানের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে বা জেনারেটর নিষ্ক্রিয় করে বিমানের মূল বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
6
8
কেবিনে তখন আপৎকালীন আলো জ্বলছে, যা মাঝ-আকাশে কেবল ইঞ্জিন বিকল বা মূল বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলেই জ্বলে ওঠে। ঘণ্টায় প্রায় ৯৭০ কিলোমিটার গতিতে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নীচে নেমে আসে।
7
8
মরুভূমির বুকে ১৮০ জন আরোহী-সহ আছড়ে পড়ার মুহূর্তে সৌভাগ্যবশত বিমানের যাত্রীাসনে উপস্থিত ছিলেন আরও দু’জন পেশাদার পাইলট। তাঁরা এবং অন্যান্য যাত্রীরা দ্রুত ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। চরম তৎপরতায় বিমানটিকে উদ্ধার করে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো সম্ভব হয়।
8
8
তীব্র গতিতে নীচে নামার কারণে বিমানের লেজের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বেঁচে গিয়েছেন প্রত্যেকেই। অভিযুক্ত সহকারী পাইলট আপাতত সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হেফাজতে রয়েছেন এবং ইজ়রায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা গোটা ঘটনাটিকে গভীর সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্র হিসেবেই খতিয়ে দেখছে।