মধ্য এশিয়ার ইরানকে ঘিরে চলা সংঘাতের প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে ভারতের বিমান পরিবহন খাতে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে বিমানের জ্বালানি খরচ বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে বিমান ভাড়ার ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ওপর প্রভাব কমাতে কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক মন্ত্রককে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বিমান পরিবহন মন্ত্রী রামমোহন নাইডু।
2
9
মন্ত্রী জানিয়েছেন, বিমান সংস্থাগুলির মোট পরিচালন খরচের প্রায় ৪০ শতাংশই আসে এয়ার টারবাইন ফুয়েল থেকে। ফলে এর দাম বাড়লেই সরাসরি তার প্রভাব পড়ে বিমান ভাড়ার ওপর। এর মূল্য প্রতি মাসের প্রথম দিনে নির্ধারিত হয়, তাই আগামী ১ এপ্রিল থেকেই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্ট হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
3
9
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ছে, বিশেষ করে মধ্য এশিয়ার উত্তেজনার কারণে। এই পরিস্থিতিতে এয়ার ইন্ডিয়া, আকাসা এয়ার ইতিমধ্যেই যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত ফুয়েল সারচার্জ আরোপ করেছে। অর্থাৎ, এখন বিমানের টিকিট কাটার সময় বেস ভাড়ার পাশাপাশি এই অতিরিক্ত চার্জও দিতে হচ্ছে যাত্রীদের।
4
9
এটিএফ হল সেই প্রকৃত জ্বালানি মূল্য, যা বিমান সংস্থাগুলি তেল সংস্থাগুলিকে দেয়। এই দাম নির্ধারণে বিমান সংস্থাগুলির কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে অতিরিক্ত খরচ সামাল দিতে তারা ফুয়েল সারচার্জ আরোপ করতে পারে, যা সরাসরি যাত্রীদের ওপর প্রভাব ফেলে।
5
9
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিমান সংস্থাগুলির সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করছে। রামমোহন নাইডু জানিয়েছেন, “আমরা এয়ারলাইনগুলির কাছ থেকে নিয়মিত ফিডব্যাক নিচ্ছি, যাতে পরিস্থিতি ঠিকভাবে মূল্যায়ন করা যায়।” তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য হল এই বাড়তি খরচ যেন যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত বোঝা হয়ে না পড়ে।
6
9
শুধু বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকই নয়, এই বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করছে বিদেশ মন্ত্রক এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকও। এটি একটি বহুমাত্রিক উদ্যোগ, যেখানে বিভিন্ন দফতরকে একসঙ্গে বসে সমাধানের পথ খুঁজতে হচ্ছে।
7
9
মন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, মধ্য এশিয়ার গন্তব্যে বিমানের নিরাপদ পরিষেবা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতীয় বিমান পরিষেবা যাতে নির্বিঘ্নে চলতে পারে, তার জন্য সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
8
9
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়ে, তাহলে ভবিষ্যতে বিমান ভাড়া আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগ কিছুটা হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।
9
9
সব মিলিয়ে, ইরান সংঘাতের জেরে বিমান পরিবহন খাতে চাপ বাড়লেও, কেন্দ্রের লক্ষ্য স্পষ্ট—পরিষেবা বজায় রাখা এবং যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা করা। এখন নজর থাকবে ১ এপ্রিলের মূল্য নির্ধারণের দিকে, যা এই খাতের ভবিষ্যৎ গতিপথ অনেকটাই নির্ধারণ করবে।