মধ্য এশিয়াতে উত্তেজনার মাঝে ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মার্কিন মেরিন ও সেনা সদস্য কৌশলগতভাবে বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্দেশ দিলেই দ্রুত সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে।
2
10
তবে এটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ বা আগ্রাসন নয়—বরং পরিকল্পনায় রয়েছে সীমিত সময়ের মধ্যে অভিযান হিসেবে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, বিশেষ বাহিনী ও পদাতিক সেনাদের মাধ্যমে দ্রুত হামলা চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করে দ্রুত সরে আসাই হবে মূল কৌশল। সম্ভাব্য এই অভিযানের সময়সীমা “কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস” হতে পারে, যা একটি স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সংঘর্ষের ইঙ্গিত দেয়।
3
10
এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হবে ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে দুর্বল করা। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং উপকূলীয় ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করা হতে পারে, যেগুলি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য সমস্যা হিসেবে বিবেচিত।
4
10
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলির মধ্যে রয়েছে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ, যা ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র। এই দ্বীপ দখল বা অবরোধ করতে পারলে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে এবং কূটনৈতিক আলোচনায় চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালীর আশপাশে অভিযান চালিয়ে ইরানের সামরিক অবস্থান দুর্বল করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
5
10
মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকারীরা আরও কয়েকটি সম্ভাব্য কৌশল বিবেচনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে লারাক দ্বীপে আঘাত হানা, যা হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, এবং আবু মুসা দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা—যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দাবি করা অঞ্চল। এছাড়া, সমুদ্রপথে ইরানের তেলবাহী জাহাজ আটকানোর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
6
10
আরও আক্রমণাত্মক পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ইরানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পারমাণবিক কেন্দ্রগুলি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া বা ইউরেনিয়াম কাবু করা। যদিও এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, তবুও বিকল্প হিসেবে ব্যাপক বিমান হামলার কথাও ভাবা হচ্ছে।
7
10
এদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট সতর্ক করে জানিয়েছেন, যদি কোনও সমঝোতা না হয়, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। অন্যদিকে, ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়েছে—তাদের ভূখণ্ডে আঘাত এলে তারা সীমাহীন প্রতিশোধ নেবে।
8
10
মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি ইতিমধ্যেই জোরদার করা হয়েছে। ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের কমান্ড ইউনিটও পাঠানো হচ্ছে, যা দ্রুত মোতায়েন ও আক্রমণ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
9
10
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের অভিযানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের শক্ত প্রতিরোধ, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি মার্কিন সেনাদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে।
10
10
সব মিলিয়ে, পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত। একদিকে সামরিক প্রস্তুতি, অন্যদিকে কূটনৈতিক অচলাবস্থা—এই দ্বৈত অবস্থান মধ্য এশিয়ার সংঘাতকে নতুন মোড়ে নিয়ে যেতে পারে। আগামী কয়েক সপ্তাহই নির্ধারণ করবে, এই সংঘর্ষ সীমিত থাকবে নাকি আরও বড় আকার ধারণ করবে।