রান্নার গ্যাসে আসছে বড় বদল! এলপিজির বিকল্প হিসেবে এবার ইথানল, কেন্দ্রের নতুন পরিকল্পনায় কী সুবিধা পাবেন?
নিজস্ব সংবাদদাতা
২০ জুলাই ২০২৬ ১৫ : ২০
শেয়ার করুন
1
12
ভবিষ্যতে রান্নার জন্য আর শুধু এলপিজি সিলিন্ডারের উপর নির্ভর করতে নাও হতে পারে। কেন্দ্র সরকার এবার রান্নার জ্বালানি হিসেবে ইথানল ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছে।
2
12
পেট্রোলে ইথানল মিশিয়ে ব্যবহারের পর এবার রান্নার ক্ষেত্রেও এই জ্বালানি ব্যবহার করা যায় কিনা, তা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে রান্নার জ্বালানির ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
3
12
ইথানল হল এক ধরনের জৈব জ্বালানি বা বায়োফুয়েল। এটি আখ, ভুট্টা, ধান, ভাঙা চাল, আখের রস বা কৃষিজ ফসল থেকে তৈরি করা হয়। যেহেতু এটি প্রাকৃতিক উৎস থেকে তৈরি হয়, তাই একে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে ধরা হয়।
4
12
বর্তমানে দেশে পেট্রোলে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মিশিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। এবার সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে রান্নার জন্যও ইথানল ব্যবহার করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
5
12
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইথানলচালিত বিশেষ গ্যাসে এই জ্বালানি ব্যবহার করা সম্ভব। এটি সাধারণ গ্যাসের মতোই কাজ করবে, তবে এর জন্য আলাদা ধরনের বার্নার ও নিরাপদ ফুয়েল ক্যানিস্টারের প্রয়োজন হবে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি সংস্থা এই ধরনের গ্যাস তৈরি করেছে এবং পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারও শুরু হয়েছে।
6
12
এই উদ্যোগের অন্যতম বড় লক্ষ্য হল বিদেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির উপর ভারতের নির্ভরতা কমানো।
7
12
বর্তমানে রান্নার গ্যাস ও জ্বালানির জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে খরচ করতে হয়। যদি দেশে উৎপাদিত ইথানল বেশি ব্যবহার করা যায়, তাহলে সেই খরচ অনেকটাই কমানো সম্ভব হতে পারে।
8
12
এই ব্যবস্থা চালু হলে কৃষকরাও লাভবান হতে পারেন। কারণ ইথানল তৈরির জন্য আখ, ভুট্টা, ধান এবং অন্যান্য কৃষিজ পণ্যের চাহিদা বাড়বে। ফলে কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত ফসলের ভালো দাম পেতে পারেন। এর পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
9
12
পরিবেশের দিক থেকেও ইথানলকে ভাল বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ব্যবহার করলে কার্বন নিঃসরণ তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। ফলে বায়ুদূষণ কমানোর ক্ষেত্রেও এটি সহায়ক হতে পারে।
10
12
তবে এখনও এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেমন সারা দেশে ইথানল সরবরাহের ব্যবস্থা তৈরি করা, নিরাপদ সংরক্ষণ, নতুন ধরনের গ্যাস সহজলভ্য করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছে দেওয়া। এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর মানদণ্ডও তৈরি করতে হবে।
11
12
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খুব শিগগিরই এলপিজির জায়গা পুরোপুরি ইথানল নেবে, এমনটা নয়। প্রথমে সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে এই ব্যবস্থা চালু হতে পারে। সবকিছু ঠিকঠাক চললে ধীরে ধীরে এর ব্যবহার বাড়ানো হবে।
12
12
সবমিলিয়ে, রান্নার জ্বালানিতে ইথানলের ব্যবহার সফল হলে তা দেশের জ্বালানি নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এতে যেমন পরিবেশের উপকার হবে, তেমনই কৃষক, অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষও দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল পেতে পারেন।