৬০ বছরের আগে অনেকেই অবসর নিতে চান। ৫০-এর দোরগোড়ায় এসে গতানুতিক চাকুরিজীবন থেকে বিশ্রাম নিতে কিংবা নিজের মতো কাজ করার ভাবনা থাকে। কিন্তু চাকরি থেকে আগে অবসর নিলে ৫০ বছর বয়স থেকেই কি পেনশন পাওয়া সম্ভব? বহু কর্মীর মধ্যে এই প্রশ্ন বিভ্রান্তি তৈরি করে।
2
9
এবিষয়ে স্পষ্ট করেছে এমপ্লয়মেন্ট প্রভিডেন্ট ফান্ড অরগানাইজেশন (ইপিএফও)। সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, ৫০ বছর বয়সে পেনশন নেওয়ার সুযোগ নতুন নয়, বরং বহুদিন ধরেই চালু রয়েছে এমপ্লয়িস' পেনশন স্কিম (ইপিএস-১৯৯৫)-এর নিয়মে। ২০২৬ সালে এ নিয়ে কোনও নতুন বিধি জারি হয়নি।
3
9
নিয়ম বলছে, কোনও কর্মী যদি অন্তত ১০ বছর ইপিএফ-এ অবদান রাখেন, তাহলে তিনি পেনশনের যোগ্য হন। সাধারণভাবে পূর্ণ পেনশন পাওয়ার নির্ধারিত বয়স ৫৮ বছর। তবে চাইলে সদস্য ৫০ বছর বয়সের পর ‘আর্লি পেনশন’-এর আবেদন করতে পারেন।
4
9
তবে এখানে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। ৫৮ বছরের আগে পেনশন নিতে শুরু করলে প্রতি বছর ৪ শতাংশ হারে পেনশনের পরিমাণ কমে যায়।
5
9
অর্থাৎ কেউ যদি ৫০ বছর বয়সে পেনশন নেন, তাহলে ৮ বছর আগেই শুরু করছেন। ফলে মোট পেনশনের প্রায় ৩২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এতে মাসিক পেনশনের অঙ্ক অনেকটাই কম হবে।
6
9
অন্যদিকে, ৫৮ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করলে পূর্ণ হারে পেনশন পাওয়া যায়। এমনকি কেউ যদি ৫৮ বছর পেরিয়ে ৬০ বছর পর্যন্ত পেনশন নেওয়া পিছিয়ে দেন, তাহলে প্রতি বছর ৪ শতাংশ করে পেনশন বাড়তে পারে। অর্থাৎ দেরিতে পেনশন শুরু করলে বাড়তি সুবিধা মিলতে পারে।
7
9
বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থিক পরিকল্পনা ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। যাঁদের জরুরি অর্থের প্রয়োজন, তাঁরা ৫০ বছরেই পেনশন নিতে পারেন। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে বেশি অর্থ পেতে চাইলে ৫৮ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করাই লাভজনক।
8
9
এছাড়া পেনশন পাওয়ার জন্য ন্যূনতম ১০ বছরের অবদান বাধ্যতামূলক। এই শর্ত পূরণ না হলে মাসিক পেনশনের বদলে এককালীন অর্থ পাওয়া যায়।
9
9
সবমিলিয়ে ৫০ বছর বয়সে ইপিএফও পেনশন শুরু করা সম্ভব, তবে তা কম হারে। নিয়ম নতুন নয়, বরং পুরোনো বিধানই বহাল রয়েছে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব শর্ত ভালভাবে জেনে নেওয়াই শ্রেয়।