২০২৬ সালে ভারত স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের মুখোমুখি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আবহাওয়াবিদরা। এর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি।
2
9
প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে যে জলবায়ুগত পরিবর্তন ঘটে, তাকে এল নিনো বলা হয়। এই প্রাকৃতিক ঘটনা বিশ্বজুড়েই আবহাওয়ার উপর বড় প্রভাব ফেলে এবং ভারতীয় মৌসুমি বায়ুকেও দুর্বল করে দিতে পারে।
3
9
বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বায়ুচাপ ও বায়ুপ্রবাহের স্বাভাবিক চক্রে পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে ‘ওয়াকার সার্কুলেশন’ নামে পরিচিত বায়ুমণ্ডলীয় প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর ফলে ভারত মহাসাগর এবং দক্ষিণ এশিয়ার দিকে আর্দ্র বায়ু প্রবাহ কমে যায়, যা সরাসরি বর্ষার বৃষ্টিপাতের উপর প্রভাব ফেলে।
4
9
ভারতে কৃষি এখনও অনেকটাই বর্ষানির্ভর। দেশের মোট চাষযোগ্য জমির একটি বড় অংশ সেচের পরিবর্তে মৌসুমি বৃষ্টির উপর নির্ভর করে। তাই বৃষ্টিপাত কম হলে ধান, ডাল, আখ, তুলো-সহ একাধিক ফসলের উৎপাদনে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। এর ফলে খাদ্যশস্যের সরবরাহ কমে গিয়ে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাও বাড়বে।
5
9
অর্থনীতিবিদদের মতে, দুর্বল বর্ষার প্রভাব শুধুমাত্র কৃষিক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না। গ্রামীণ অর্থনীতি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পানীয় জলের সরবরাহ এবং শিল্প উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি পর্যাপ্ত বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
6
9
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই এল নিনোর গতিবিধির উপর নজর রাখছে। যদিও এখনও চূড়ান্ত পূর্বাভাস প্রকাশ করা হয়নি, তবে প্রাথমিক তথ্য বলছে ২০২৬ সালে এল নিনোর প্রভাব শক্তিশালী হতে পারে। অতীতে দেখা গিয়েছে, শক্তিশালী এল নিনোর বছরে ভারতে গড় বৃষ্টিপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
7
9
তবে আবহাওয়াবিদরা এটাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, এল নিনো থাকলেই সবসময় খরা পরিস্থিতি তৈরি হয় না। ভারতীয় মহাসাগরের তাপমাত্রা, স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ এবং অন্যান্য জলবায়ুগত উপাদানও বর্ষার চরিত্র নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই পরিস্থিতি নিয়ে এখনই আতঙ্কিত না হয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
8
9
বিশেষজ্ঞদের মতে, জল সংরক্ষণ, বিকল্প সেচ ব্যবস্থা এবং খরাপ্রতিরোধী ফসলের চাষ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে কৃষকদের আগাম তথ্য ও আবহাওয়া সংক্রান্ত সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়াও জরুরি।
9
9
২০২৬ সালের বর্ষা কেমন হবে, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা না গেলেও এল নিনোর সম্ভাবনা ইতিমধ্যেই উদ্বেগ বাড়াতে শুরু করেছে। কারণ ভারতের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে বর্ষার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর।