চলতি বছর ভারতের বর্ষার পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন না হলে গত ১৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল বর্ষার মুখে পড়তে পারে দেশ।
2
11
জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা বর্ষা মরসুমে এখনও পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর। এই ঘাটতি শেষ পর্যন্ত বজায় থাকলে ২০০৯ সালের পর এটিই হতে পারে দেশের সবচেয়ে দুর্বল বর্ষা।
3
11
২০০৯ সালে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছিল। চলতি বছরের জন্য অবশ্য এর আগে মে মাসে হাওয়া অফিস পূর্বাভাস দিয়েছিল, গোটা মরসুমে বৃষ্টির ঘাটতি হতে পারে প্রায় ১০ শতাংশ। কিন্তু বাস্তবে এখনও পর্যন্ত বৃষ্টির ঘাটতি সেই পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি।
4
11
এর মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে একটি ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় তৈরির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার পরামর্শদাতা সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্রিশ্চিয়ান ওয়ার্নার।
5
11
সম্ভাব্য এই ঝড়ের প্রভাবে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু এলাকায় প্রয়োজনীয় বৃষ্টি হতে পারে। ফলে ওই অঞ্চলগুলিতে বৃষ্টির ঘাটতি কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
6
11
তবে এর ফলে গোটা দেশের বর্ষার ঘাটতির ছবিতে বড় কোনও পরিবর্তন আসবে না বলেই মনে করছেন ওয়ার্নার। তাঁর অনুমান, মরসুম শেষে দেশের সামগ্রিক বৃষ্টির ঘাটতি ১৩ থেকে ১৬ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে।
7
11
ভারতের কৃষি অর্থনীতির জন্য বর্ষার বৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের কয়েকশো মিলিয়ন কৃষক চাষের জন্য মৌসুমি বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল। ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় ধান, আখ এবং তুলা উৎপাদক দেশ। দেশের বার্ষিক মোট বৃষ্টির বড় অংশই আসে জুন থেকে সেপ্টেম্বরের বর্ষাকালে।
8
11
দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির ঘাটতির প্রভাব পড়তে পারে চলতি ফসলের পাশাপাশি পরবর্তী চাষের মরসুমেও। ইতিমধ্যেই গত মরসুমের তুলনায় ধান, আখ এবং ভুট্টার চাষ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন কমে গেলে বাজারে খাদ্যপণ্যের সরবরাহেও চাপ তৈরি হতে পারে।
9
11
এদিকে খাদ্যপণ্যের দামও বাড়ছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি টানা সপ্তম মাসে বেড়ে ৫.৯৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টির ঘাটতি প্রতি ১ শতাংশ বাড়লে সাধারণত খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে প্রায় ২৫ বেসিস পয়েন্টের চাপ তৈরি হতে পারে।
10
11
কম বৃষ্টি এবং খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধির পরিস্থিতিতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র। বাজারে সরবরাহ বাড়াতে শুল্কমুক্ত চিনি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কিছু রাজ্যে ভর্তুকি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করেও দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
11
11
ফলে সেপ্টেম্বরের শেষ ভাগে বঙ্গোপসাগরে সম্ভাব্য নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় কতটা বৃষ্টি নিয়ে আসে, তার দিকে নজর থাকবে। তবে সেই বৃষ্টি এলেও জাতীয় স্তরে বর্ষার ঘাটতি কতটা পূরণ হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।