ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দানে আকাশপথে লড়াইয়ের চেনা ব্যাকরণ যেন এক লহমায় বদলে দিচ্ছে রাশিয়া। এবার তাদের তুরুপের তাস নতুন প্রজন্মের আত্মঘাতী ড্রোন 'গেরান-৫' (Geran-5)। ঘণ্টায় প্রায় ৬০০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝাঁকে ঝাঁকে ধেয়ে আসা এই ড্রোন আধুনিক ড্রোন-যুদ্ধের গতিপথ ও সমীকরণ সম্পূর্ণ নতুন করে লিখছে।
2
7
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আকাশপথে প্রতিপক্ষকে পর্যুদস্ত করতে কম খরচে এমন বিধ্বংসী ও বিদ্যুৎগতির প্রযুক্তি আগে সেভাবে দেখা যায়নি, যা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক নতুন দুঃস্বপ্নের জন্ম দিয়েছে।
3
7
এতদিন পর্যন্ত কম গতির প্রপেলার চালিত ড্রোন নামিয়ে আনতে ইউক্রেনীয় বাহিনী ভ্রাম্যমাণ এয়ার ডিফেন্স ইউনিট বা সাধারণ অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট গানের ওপর বহুলাংশে ভরসা করত। কিন্তু জেট ইঞ্জিনচালিত গেরান-৫ আকাশে প্রবেশ করতেই সেই চেনা কৌশল কার্যত ভেঙে পড়েছে।
4
7
ঘণ্টায় ৬০০ কিলোমিটারের এই দুরন্ত গতির কারণে প্রথাগত মাঝারি মানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একে টার্গেট বানানোর আগেই তা নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানছে। আরও বড় উদ্বেগের বিষয় হল, এই ড্রোনগুলোকে একা নয়, বরং একাধিক স্তরে ঝাঁক বেঁধে ছোড়া হচ্ছে। এর ফলে প্রতিপক্ষের রাডার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একযোগে বিভ্রান্ত ও দিশেহারা হয়ে পড়ছে।
5
7
যুদ্ধক্ষেত্রের অঙ্কে এই প্রযুক্তিগত রূপান্তর ইউক্রেনের পশ্চিমী বন্ধুদের দেওয়া আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্যও এক বিরাট অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তুলনামূলকভাবে সস্তা এই রুশ ড্রোনগুলোকে ধ্বংস করতে ইউক্রেনকে খরচ করতে হচ্ছে অত্যন্ত দামি প্যাট্রিয়ট বা ন্যাসামসের মতো লাখ লাখ ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র।
6
7
ফলে রুশ বাহিনী কেবল সামরিক পরিকাঠামো ধ্বংস করছে না, বরং অর্থনৈতিকভাবেও প্রতিপক্ষের গোলাবারুদের ভাণ্ডারে টান ধরাচ্ছে।
7
7
সামরিক পর্যবেক্ষকদের দাবি, আকাশপথের এই ঝটিকা হামলা আধুনিক যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী সমীকরণকে এমন এক মোড়ে এনে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে প্রযুক্তিগত গতি ও উৎপাদনের প্রাচুর্যের জোরেই মস্কো রণাঙ্গনে নিজের কর্তৃত্ব কায়েম করতে চাইছে।