ভারতের কৃষি, অর্থনীতি ও জলসম্পদের প্রাণভোমরা হল বর্ষা। আর এই বর্ষার ওপর অন্যতম বড় প্রভাব ফেলতে পারে এল নিনো। প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে এই জলবায়ু ঘটনা তৈরি হয়, যা বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ছন্দ বদলে দেয়। সাধারণভাবে, এল নিনো মানেই ভারতের জন্য দুর্বল বর্ষার আশঙ্কা—কিন্তু বাস্তব ছবি আরও জটিল।
2
8
ইতিহাস বলছে, বেশিরভাগ এল নিনো বছরে ভারতে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের নিচে থাকে। তবে সব ক্ষেত্রেই তা সত্যি নয়। কারণ বর্ষা শুধু মোট বৃষ্টির পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না, বরং বৃষ্টির সময়, বিস্তার এবং বণ্টনের ওপরও নির্ভরশীল।
3
8
অনেক সময় দেখা গেছে, মোট বৃষ্টি কম হলেও নির্দিষ্ট সময়ে বা নির্দিষ্ট অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়েছে। ফলে কৃষির উপর প্রভাব কখনও কম, কখনও বেশি হয়।
4
8
ভারতের বর্ষা একটি দীর্ঘ চার মাসের প্রক্রিয়া—জুন থেকে সেপ্টেম্বর। যদি সিজনের শুরুতে বৃষ্টি দেরিতে আসে বা মাঝখানে দীর্ঘ বিরতি নেয়, তাহলে ফসলের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে।
5
8
আবার, যদি কম সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়, তাহলে বন্যা ও জমি ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ে। তাই শুধু “কম বৃষ্টি” নয়, বরং বৃষ্টির সময় ও ভৌগোলিক বণ্টনই আসল পার্থক্য গড়ে দেয়।
6
8
ভারতের প্রায় অর্ধেক চাষযোগ্য জমি এখনও বর্ষার জলের উপর নির্ভরশীল। দুর্বল বর্ষা মানেই খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়া, গ্রামীণ আয়ে চাপ, মূল্যবৃদ্ধি। অন্যদিকে, ভালো বণ্টনের বৃষ্টি কৃষিকে স্থিতিশীল রাখে, এমনকি মোট বৃষ্টি কম হলেও।
7
8
এই বছর এল নিনোর উপস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা থাকলেও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি একেবারে একমুখী নয়। বর্ষার শুরু, মাঝামাঝি বিরতি এবং শেষ পর্যায়ের বৃষ্টিপাত—সবকিছু মিলিয়েই চূড়ান্ত ফল নির্ধারিত হবে।
8
8
এল নিনো অবশ্যই ভারতের বর্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি, কিন্তু সেটাই সব নয়। “কতটা বৃষ্টি হল” তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ “কখন” এবং “কোথায়” বৃষ্টি হল। তাই এই সিজনে চোখ রাখতে হবে শুধু পূর্বাভাসে নয়, বরং বাস্তব সময়ের আবহাওয়ার পরিবর্তনের দিকেও।