জাপানি ঘরবাড়ি সবসময় অত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে কীভাবে? রহস্য কী? এর পেছনে বিপুল খরচ, এমনটাও নয়। নেপথ্যে রয়েছে ছোটবেলা থেকে গড়ে ওঠা কয়েকটি অভ্যাস। জায়গা ছোট হোক কিংবা পরিবার বড়, এই অভ্যাসগুলো পালন করতে পারলে সহজেই ঘরবাড়ি ঝাঁ চকচকে থাকে।
2
9
প্রতিটি জাপানি বাড়ির মুখে ‘গেনকান’ নামে একটি বিশেষ জায়গা থাকে। ঘরের ভেতর ঢুকতে গেলে সেখানে জুতো খুলে রাখতেই হয়। বাড়ির মেঝেতে এতে বাইরের ধুলোবালির স্পর্শ পড়ে না। আমাদের দেশে প্রবেশপথে একটি সস্তার মাদুর আর সাধারণ জুতো রাখার তাকই এই কাজের জন্য যথেষ্ট।
3
9
বাথরুমে ব্যবহারের জন্য জাপানিদের আলাদা একজোড়া চপ্পল নির্দিষ্ট থাকে। ঘরের বাকি অংশে সেটি কখনও পরা হয় না।
4
9
নতুন বছর আসার ঠিক মুখে জাপানি পরিবারগুলো ঘরদোর থেকে শুরু করে জানালায় জমে থাকা ধুলোবালি- যাবতীয় ছেঁকে পরিষ্কার করে ফেলে। পরিকল্পনা মাফিক এই বাৎসরিক সাফাই চালানো হয়।
5
9
চা ফুটতে ফুটতে রান্নাঘরের কাউন্টারটা একটু মুছে নেওয়া কিংবা ব্রাশ করার পর বেসিনটা একবার ধুয়ে ফেলা- এসব কাজে এক মিনিটের বেশি সময় লাগে না। সামান্য অভ্যাসে সপ্তাহের শেষে এসে ধুলো-ময়লার পর্বত জমে না।
6
9
বাড়ির বাড়তি জিনিস হটানো। একে বলা হয় ‘দানশারি’। কাজের নয় এমন জিনিসপত্র ছাঁটাই করে ফেলুন। টেবিলে বা তাকে টুকিটাকি জিনিসের ভিড় কম থাকলে ধুলো ঝাড়ার ঝক্কিও কমে আসে।
7
9
কনকনে শীতেও জাপানিরা প্রতিদিন ঘরের জানালা খুলে দেন দূষিত হাওয়া বের করে দেওয়ার জন্য। তোশক-বিছানা নিয়মিত কড়া রোদে মেলা হয়। এতে কানাকড়িও খরচ নেই, উল্টে বর্ষাকালের ছাতা-পড়া গন্ধ থেকে রেহাই মেলে সহজেই।
8
9
বাজারচলতি কড়া রাসায়নিকের বদলে ভিনেগার, বেকিং সোডা আর ইষদুষ্ণ জলই তাঁদের ঘর পরিষ্কারের ভরসা। এমনকী ঘর ঝাড়ু দেওয়ার আগে কার্পেটে ব্যবহৃত ভেজা চা-পাতা ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে চটজলদি ধুলো উঠে আসে। এতে যেমন পকেটের সাশ্রয় হয়, তেমনই হাতও থাকে নিরাপদ।
9
9
জাপানের স্কুলে ছোটদেরই নিজেদের ক্লাসরুম ঝাড়ু দিয়ে মুছে পরিষ্কার রাখতে হয়। সেই অভ্যাসই তারা বাড়িতে পালন করে। নিজের পড়ার টেবিল কিংবা জুতো জোড়া নিজের হাতেই গুছিয়ে রাখা শেখানো গেলে বাড়ির পরিচ্ছন্নতা নিয়ে রোজকার অশান্তি নিমেষেই উবে যায়।